পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। ‘নিজের চরকায় তেল’ দিতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অভ্যুত্থান চেষ্টার পর পশ্চিমা দেশগুলো আঙ্কারার সঙ্গে সংহতি প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন এরদোয়ান।
অভ্যুত্থান চেষ্টার পর তুরস্কে ব্যাপক ধরপাকড় এবং বরখাস্তের জন্য পশ্চিমা দেশের নেতারা এরদোয়ানের সমালোচনা করছেন। তিনি এর বিপরীতে পশ্চিমকে বলেন, ‘নিজের চরকায় তেল দিন।’ শুক্রবার (২৯ জুলাই) আঙ্কারায় প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে এরদোয়ান পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, যারা তুরস্কের গণতন্ত্র থেকেও বেশি চিন্তিত অভ্যুত্থানকারীদের ভাগ্য সম্পর্কে, তারা তুরস্কের প্রকৃত বন্ধু নয়।
এরদোয়ান বলেন, ‘যখন সন্ত্রাসী হামলায় ১০ জন নিহত হচ্ছেন, তখন আপনারা (পশ্চিমা দেশের নেতারা) বিশ্বকে জ্বালিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু যখন তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টা হলো, আপনারা অপরাধীদের পক্ষ নিলেন।’
তুরস্কে অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকে সেনা সদস্য, বিচারক, আইনজীবী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ অন্তত ১৮ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে আট হাজার মানুষের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যেই বেশকিছু সংবাদমাধ্যমকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সরকারি নিয়ন্ত্রণকে পশ্চিমা নেতাদের একাংশ ‘কর্তৃত্ববাদী’ আচরণ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার নেওয়ার দাবি করে, যা দেশটির টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করে দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে’ সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের ক্ষমতা দখল করেছে। টেলিভিশনের পর্দায় পড়ে শোনানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এখন ‘শান্তি পরিষদ’দেশ চালাবে এবং কারফিউ ও সামরিক আইন জারি থাকবে। একই সঙ্গে তুরস্কের বিদ্যমান বৈদেশিক সব সম্পর্ক বহাল থাকবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রাধান্য পাবে। কারফিউর বিরোধিতা করে এরদোয়ানের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়।