পাঁচবিবি সীমান্তে বিএসএফের বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ

পাঁচবিবি প্রতিনিধি, জয়পুরহাট:
পাঁচবিবি সীমান্তে বিএসএফের বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ২১ শে জানুয়ারি দুপুর ১.৩০ মিনিটে পাঁচবিবি থানার ধরঞ্জী ইউনিয়নের উচনা (সোনা তলা) সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ তাদের এসপিলার ঠিক করতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রায় ৩ বিঘা জমি দখল করে নেয়। জমির মালিক মো. হাফিজ উদ্দিন মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে এই ৩ বিঘা জমি চাষাবাদ করে আসছিলেন। কখনো এস পিলারের পার্শ্বে ভারতীয় জমির মালিক যোধা মাহাতো, হাফিজ মন্ডলের জমি নিজের বলে দাবি করে নাই। কিন্তু বিএসএফ অন্যায়ভাবে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমারেখা লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের সম্পত্তির উপর আইল দিয়ে নিজেদের বলে দাবি করছে। যা বাংলাদেশের মৌজা নকশা ও বিজিবি ও বিএসএফএর স্টিপ ম্যাপের সম্পূর্ণ বিপরীত। ২৮০নং পিলারের ১০ এস এবং ১১ এস পিলার থেকে শুরু করে ২৮০’র ১২/১৩ এস পিলারের মধ্যবর্তী জায়গা ৫৭ লিংক ভাঁজ থাকার পরেও ১০ এস পিলার থেকে শুরু করে ১২ এস পিলার সোজা করার কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৩ বিঘা সম্পত্তি ভারতের অভ্যন্তরে চলে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের জমির দাগ নং ২৩৯, ৮, ৬৩৫ এবং ৬৩৪ এর অনেক অংশ ভারতীয় অংশে চলে যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে হাটখোলা বিওপিকে অবগত করলেও তারা নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এমতাবস্থায় জমির মালিকগণ পাগলপ্রায়। ফসলি জমিতে গমক্ষেত নষ্ট করে তারা একটি পিলার থেকে অপর একটি পিলার সোজা করার কারণে ফসলও নষ্ট হয়েছে এবং জমির অন্য অংশে বিএসএফ ধান রোপণ করতে বাধা প্রদান করছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখার আইন অনুযায়ী ম্যাপে একটি পিলার থেকে অপর একটি পিলার সোজা করার কোন সুযোগ নেই।
গত ৫ মার্চ কয়া সীমান্তে দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার মহোদয়, ৩ বিজিবির অধিনায়ক এবং ওয়ার্কসহ অফিসার মেজর রুমি, পাঁচবিবি উপজেলার নির্বাহী অফিসার, পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ এবং পাঁচবিবির পৌর মেয়র।
উক্ত মতবিনিময় সভায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হাফিজ উদ্দিনের বড় ছেলে মাহাবুব আলম বিষয়টি সকলের অবগতির জন্য উপস্থাপন করেন। অবগত অন্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত উক্ত জমি উদ্ধারের কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি।
পাঁচবিবি হাটখোলা বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তা নায়েব সুবেদার বরকত উল্ল্যাহ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমাদের কাছে এসেছে। উপর মহলও বিষয়টি জানেন।

Comments (0)
Add Comment