পীরগাছায় প্রেম ঘটিত ঘটনায় স্কুল ছাত্রকে হত্যার পর লাশ গুম করার সময় আটক ৩ জন গতকাল রংপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এঘটনায় পীরগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে গতকাল শনিবার দুপুরে উত্তেজিত ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী পীরগাছা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এদিকে গত শুক্রবার রাতে আসামীদের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিকান্ডের পর গতকাল শনিবার আবারো অন্য একটি চক্র হামলার চেষ্টা করছে। এ খবর পেয়ে পীরগাছা থানা পুলিশ ওই বাড়িতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করেছে।
জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলা অন্নদানগর ইউনিয়নের জগজীবন গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে ও নয়ারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র শাহিন আলম গত বৃহস্পতিবার একই গ্রামের প্রভাবশালী দুলা হাজীর ছেলে আলী আকবর এর মেয়ে ৭ম শ্রেনির ছাত্রী সুমি আকতারকে প্রেম নিবেদন করে। এঘটনায় সুমি আকতারের পিতা অন্যান্যে সহযোগিদের সহায়তায় স্কুল ছাত্র শাহিন আলমকে ফিল্মি স্টাইলে ধরে নিয়ে আসে এবং তার বাড়ির একটি গোডাউন ঘরে তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার উদ্যোশে তাদের নিজস্ব স্কুটারে করে তিস্তা নদীসহ লালমনিরহাটের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পর লালমনিরহাট জেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের আনন্দ বাজার পাকার মাথা এলাকায় তিস্তা নদীর তীরবর্তি স্থানে ফেলার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী সন্দেহ হয়। পরে ওই এলাকার লোকজন চালক ও আরোহীদের চ্যালেঞ্জ করে তল্লাসি চালিয়ে স্কুটারের ভিতর থেকে শাহিন আলমের লাশ উদ্ধার করে এবং দুলা হাজী ছেলে আলী আকবর (৪৫) জয়নুদ্দিনের ছেলে সুরুজ আলী (২২) ও স্কুটার চালক সেলিম মিয়ার ছেলে রানা মিয়া (৩২)কে আটক গণধোলাই দেয়। পরে লালমনিরহাট থানা পুলিশ লাশসহ তাদের উদ্ধার করে পীরগাছা থানা পুলিশের নিকট সোর্পদ করে। গতকাল শনিবার পীরগাছা থানা পুলিশ আটক আসামীদের আদালতে হাজির করলে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপরদিকে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে গতকাল শনিবার দুপুরে উত্তেজিত ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী পীরগাছা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
একটি সুত্রে জানা গেছে, ওই রাতে আসামীদের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিকান্ড ঘটানোর পর গতকাল শনিবার আবারো অন্য একটি চক্র হামলার চেষ্টা করছে। এ খবর পেয়ে পীরগাছা থানা পুলিশ ওই বাড়িতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করেছে।
পীরগাছা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, এ হত্যাকান্ডে ঘটনায় গতকাল নিহতের পিতা ইব্রাহিম মিয়া বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। আটক আসামীদের জবানবন্দির পর রংপুর জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে এবং আসামীদের বাড়িতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।