পোশাক বিক্রি যেন ডাকাতিতে রুপ নিয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বিপনীবিতানগুলোতে পোশাকের দাম দেখে এমন চিত্রই পরিলক্ষিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর মিমি সুপার মার্কেট, আতমি প্লাজা, সানমার শপিং কমপ্লেক্স এ গিয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান বাজার/মার্কেট মনিটরিং এর সময় এমন কয়েকটি ঘটনা দেখতে পান।
মিমি সুপার মার্কেটের ‘ইয়াং লেডি’ দোকানে গিয়ে দেখা যার মেয়েদের ফ্লোর টাচ নামক এক ড্রেসের দাম উনিশ হাজার পাচশত টাকা। অনুসন্ধানে দেখা যায় তার এ কাপড়ের প্রকৃত ক্রয়মূল্য ৬৯৯৫ টাকা। প্রতি কাপড়ে লাভ করেন ১২৫০৫ টাকা !! আরেকটি কাপড়ের ক্রয়মূল্য ছিলো ৪৫৫০ টাকা আর বিক্রয়মূল্য ছিলো ১৪৫০০ টাকা। বিভিন্ন গোপন কোডে লেখা থাকে এসকল পণ্যের দাম, যা ক্রেতাদের বোঝার কোন উপায় নেই। তাই বিক্রেতা তার ইচ্ছামত দাম হাকছেন। ঠকিয়ে যাচ্ছেন সাধারন মানুষকে। অনেকে আবার টেরি বাজার থেকে কাপড় কিনে, ভারত থেকে ইম্পোর্ট করেন বলে দাবি করেন। কিন্তু কাগজপত্র অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে প্রকৃত চিত্র। এ যেন কাপড় বিক্রয়ের নামে ডাকাতি।
এভাবে একই মার্কেটের আচল, আকর্ষণ; আতমি প্লাজার সেলিব্রেশন্স, সুরুচি কালেকশন, পারফিউম ওয়ার্ল্ড, লন্ডন লুক; সানমারের নিউ বাসাবি সহ প্রায় ২০টি দোকানে গিয়ে দামের এমন ব্যপক অসামঞ্জস্যতা দেখা যায়। কেউ কেউ দেখাতে পারেননি ক্রয়মূল্যের রশিদ। অনেকে বলেন তারা রশিদ রাখার বিষয়টি জানতেন না। এ সকল মার্কেটে প্রথমবারের মত এ বিষয়ে অভিযান হওয়ায় কঠোরভাবে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
আগামী রবিবার পর্যন্ত তাদের এ বিষয়গুলো ঠিক করে নেবার জন্য সময় দেয়া হয়েছে থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সকল মার্কেটে কেন্দ্রীয় সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে সকল ব্যবসায়ীদের চারটি নির্দেশনা দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১। ক্রয় মূল্যের রশিদ সংরক্ষণ করতে
২। সকল বিক্রয়ে ক্রেতাদের রশিদ দিতে হবে ৩। ক্রেতাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে ৪। সকল মার্কেটে অভিযোগ বক্স থাকতে হবে।
তবে বিভিন্ন মার্কেটে দামের যে ব্যপক তারতম্য দেখা যায় তা নিঃসন্দেহে আশঙ্কাজনক। সাধারন মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে এসব পণ্যের মূল্য।
অভিযানে আরো অংশগ্রহন করেন শিক্ষনবিস নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়স মোদার আলী ও তানিয়া মুন। ক্যাবের প্রতিনিধি জান্নাতুল ফেরদৌস, সভাপতি, ক্যাব, সদরঘাট থানা ও এ এম তৌহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এর প্রতিনিধি মোঃ মোকাম্মেল হক খান এবং মিমি সুপার মার্কেট, আতমি প্লাজা ও সানমার শপিং কমপ্লেক্স এর ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ। পুলিশ ও ব্যটেলিয়ন আনসার আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে ছিলেন।
এদিকে কর্ণেল হাট বাজারে চারটি দোকানে মূল্য তালিকা না থাকায় পাচ হাজার টাকা করে মোট বিশ হাজার টাকা জরিমান করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এর নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি, তাহমিদা আক্তার ও আবদুস সামাদ শিকদার।
ব্যটারি গলিতে মূল্য তালিকা না থাকা, অতিরিক্ত মূল্যে পন্য বিক্রয় ও ওজনে কারচুপির জন্য চার ব্যবসায়ীকে ১৯০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আবার চক বাজারের রবিন বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য তৈরীর কারনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফোরকান এলাহী অনুপম, অনুপমা দাস ও হাসান বিন মোহাম্মাদ আলী।

Comments (0)
Add Comment