প্রচন্ড গরমের দাবদাহ থেকে ভালো থাকার উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ প্রচন্ড গরমে বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অভ্যন্তরের তাপমাত্রাও বেড়ে যায়। ফলত বেসাল মেটাবলিক রেট অর্থাৎ বেড়ে গিয়ে নানান রকম শারীরিক গোলোযোগ হবার সম্ভাবনা থাকে। হরমোন এবং এনজাইমগুলির স্বাভাবিক কাজ ব্যহত হয়।সরাসরি রোদের আলো লাগলে চোখ এবং ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ।

তাই সকাল ১১ টার পর এবং বিকেল ৪ টার আগে নিতান্ত প্রয়োজন না হলে বাইরে না যাওয়াই ভাল। ছাতা, সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রন গাড়ি থেকে বেরোতে হলে ছায়াতে নামতে পারলে ভালো হয়।
গরমে সব থেকে বেশি অসুস্থ হবার সম্ভাবনা থাকে এক্সট্রিম এজ গ্রুপের অর্থাৎ শিশু ও বয়স্ক মানুষদের। সকাল ১১ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে যাবেন না। ব্যাংক বা অফিসের কাজ থাকলে সকালে বা বিকেলে সেরে ফেলুন।
রোদের আলো এড়িয়ে চলার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালান্স বজায় রাখতে ও আর এস , ফলের রস সহ জলীয় খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে। শরীরে অস্বস্তি হলে, মাথা ঝিমঝিম করলে ঠান্ডা জায়গায় গিয়ে লবণ চিনির পানি পান এবং প্রয়োজনে ঠান্ডা পানিতে গোসল করে নিতে হবে।

এ গরমে হাল্কা রঙের সুতির পোশাক পরা উত্তম। অন্য সময় প্রতি কেজি দেহের ওজন পিছু ৫ থেকে ১০ মিলি ঘাম নির্গত হয়। কিন্তু প্রখর দাবদাহের সময় এই পরমাণ বেড়ে দাঁড়ায় কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ মিলিতে। সুতরাং, প্রচুর পানি ও মিনারেল শরীর থেকে বেরিয়ে যায় বলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ফলে কিডনি সহ শরীরের অভ্যন্তরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কাজ কমতে শুরু করে। তাই এই সময় প্রচুর পানি সহ নানান ফল, টাটকা ফলের রস, ডাবের পানি, লেবুর সরবত পান করতে হয়।

ঘামের সঙ্গে সোডিয়াম পটাশিয়াম বেরিয়ে গেলে মাথা ঝিমঝিম করা ছাড়াও মেজাজ খারাপ হতে পারে। তাই এই সময় যারা গাড়ি চালান তাদের অ্যাকসিডেন্ট করার চান্স বাড়ে। তাই প্রত্যেক গাড়ির চালকের মাথা ঠান্ডা রেখে ড্রাইভ করা উচিত।
গরমে জ্বর ও পেটের সংক্রমণের সম্ভবাবনা থাকে। জ্বর হলে ঠান্ডা পানিতে অবশ্যই গোসল করবেন । জ্বর-এ ডিহাইড্রেশনের চান্স বাড়ে। তাই লিক্যুইড ডায়েটের পরিমাণ বাড়াতে হবে। পেটের সমস্যা এড়াতে বাইরে খাওয়া এবং ভাজা ও মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন।
ঘাম হয়ে বা অন্য কারণে ডিহাইড্রেশন হলে পা সহ শরীরের বিভিন্ন পেশীতে ক্র্যাম্প হয়। অল্প অল্প করে বারে বারে সরবত খেলে সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন।বেশি শারীরিক পরিশ্রম করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ওজন তুললেও সমস্যা হতে পারে। বেশি রোদে কায়িক শ্রম না করাই ভাল।

Comments (0)
Add Comment