ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগের দুই-পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার রামকান্তুপুর ইউনিয়নের মদনদিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে এ সংঘর্ষ আশপাঁশের কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রধারীদের ভয়ানক আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ দেখে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। পুলিশ ১৭ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। শনিবারও সকাল থেকে বিকাল পর্যন্তু ওই এলাকায় উত্তেজনা দেখা যায়। ঘটনাস্থলে এখনো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জানা গেছে, স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইমারত হোসেন পিকুলের সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইশারত হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। একটি জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে শুক্রবার বিকালে পিকুল ও ইশারতের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এরপর পিকুল ও ইশারতের বিরোধ আরো তীব্র হয়ে উঠে। একপর্যায় সন্ধ্যার দিকে মদনদিয়া গ্রামে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে একে আপরের উপর দফায় দফায় হামলা চালায়। মদনদিয়া গ্রামের এ সংঘর্ষে অংশ নিতে আশপাঁশের কয়েকটি গ্রাম থেকে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আসার চেষ্টা করলে প্রত্যেক গ্রামেই উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষকে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে দেখা যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত কয়েক জনকে বোয়ালমারী ও নগরকান্দা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ডিএম বেলায়েত হোসেন বলেন, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে ১৭ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। এলাকার পরিবেশ এখন মোটামুটি শান্ত। ঘটনাস্থলে এখনো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।