মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে অবস্থিত শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খুনি হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। এ ঘটনায় সভাস্থলে তুমুল তর্ক বিতর্ক ও হৈ হুল্লোর সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, সকালে প্রভাতফেরী ও শহীদ মিনারে পূষ্পস্তবক অর্পণ শেষে হলরুমে আলোচনা সভা শুরু হয়। সকলের বক্তব্য শেষে সভাপতির বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান বলেন , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন স্পিকার সাহেদ আলী পাটোয়ারীকে সংসদের মধ্যে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছিলেন।
এরপর প্রভাষক নাজমা রশীদ এর প্রতিবাদ করলে তিনি তাকে ধমক দিয়ে বলেন আমি ইতিহাস জানি । আপনারা ইতিহাস জানেন না ইতিহাস জেনে কথা বলবেন।
তবে ৭২ এর খসড়া সংবিধানপ্রণেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড.আবু সাইয়িদ এর লেখা থেকে জানা যায়, ১৯৫৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ডেপুটি স্পিকার সাহেদ আলীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে সংসদ সদস্য ইউসুফ আলী চৌধুরী, সৈয়দ আজিজুল হক, আব্দুল লতিফ বিশ্বাস,আব্দুল মতিন, গোলাম সরোয়ার, মহম্মদ-উন-নবী চৌধুরী প্রমুখ সদস্যরা সমস্বরে দাবি জানালেন, সাহেদ আলী সাহেব কাল বিলম্ব না করে স্পিকারের আসন যেন ত্যাগ করেন ।
আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর বইতে আবুল মনসুর আহম্মেদ লিখেছেন, পেপার ওয়েট, মাইকের মাথা, মাইকের ডান্ডা, চেয়ারের পায়া-হাতল ডেপুটি স্পিকারের দিকে মারা হইতে লাগিল। বিরোধীদলীয় চক্রান্তকারীদের ইটপাটকেলে ডেপুটি স্পিকার আহত হন। তিনি ছিলেন ডায়াবেটিসের রোগী। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরের দিন মারা যান।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান তার বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করে পুনরায় একই কথা বলেন। তিনি আর ও জানান, কয়েকটি ইতিহাসের বই পড়ে এ তথ্য পেয়েছেন। তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন বইয়ের নাম উল্লেখ করতে পারেননি।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার বালা জানান, এ ধরনের কথা বলা তার ঠিক হয়নি। যদি বলে থাকে তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা নেয়া হবে