সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তী অলরাউন্ডার ইমরান খান বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের পরাজয়ে হতাশা প্রকাশ করে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়াটাকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
বুধবার ঢাকায় শেষ ম্যাচে ৮ উইকেটে পরাজিত হয়ে তিন ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয় পাকিস্তান এবং দেশটির অনেক সমর্থকই এটা বিশ্বাস করতে পারছে না।
ইমরান খান পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বিরুদ্ধে ‘স্বজন প্রীতির’ অভিযোগ আনেন এবং পাকিস্তানের এমন দূরাবস্থার জন্য ঘরোয়া অবকাঠামোতে সঠিকভাবে পরিচালনার অভাবকে দায়ী করেন। অনেক সাবেক ক্রিকেটারই এটাকে দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে ‘সবচেয়ে খারাপ বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বুধবার পরাজয়ের পর ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে অষ্টম স্থানে নেমে গেছে পাকিস্তান। র্যাকিংয়ে নবম ও দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে।
১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ী পাকিস্তান অধিনায়ক ৬২ বছর বয়সী ইমরান বলেন, প্রথমে ব্যবস্থাপনায় থাকা সমস্যা সমাধান করতে হবে এবং এরপর অন্য সব দুর্বল দিকগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে গেলেও ক্রিকেটের প্রতি নজর রাখা ইমরান খান করাচিতে একটি উপ-নির্বাচনের সময়ে সাইডলাইনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বোর্ডে যে সকল ব্যক্তি আছেন তাদের অধীনে অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তান ক্রিকেটের কোন উন্নতি হবে না। কেননা এ সব ব্যক্তি মেধা নয় স্বজন প্রীতির মাধ্যমে বোর্ডে জায়গা পেয়েছেন। দু:খের বিষয় হচ্ছে আমাদের বোর্ডের কর্তাব্যক্তিদের ক্রিকেট সম্পর্কে কোন জ্ঞান নেই।’
‘পাকিস্তান ৩-০ ব্যবধানে বাংলাদেশের কাছে হারবে এবং ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে আট নম্বরে নেমে যেতে পারে- আমি কখনোই এটা ভাবতে পারিনি।’
খান বলেন এমনকি ক্রিকেট গ্রেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ড পাকিস্তানকে ‘মোস্ট ট্যালেন্টেড’ ক্রিকেটিং নেশন হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিন্তু দুর্বল পদ্ধতির কারণে দেশটি কখনোই তাদের সত্যিকারের যোগ্যতা অনুধাবন করতে পারল না।
‘আমার ২১ বছরের ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি বিশ্বের কোন দেশেই পাকিস্তানের মত এত ভাল ক্রিকেট মেধা নেই।’
‘আমি এদেশের নাগরিক বিধায় এটা বলছি না। এমনকি স্যার ভিভ রিচার্ডও পাকিস্তানের বিষয়ে একই কথা বলেছেন। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যান মিসবাহ উল হক এবং ৩৪ বছর বয়সে তাকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। মোহাম্মদ ইরফানকে দলে সুযোগ দেয়া হয়েছে ৩০ বছর বয়সে। সাধারণত এমন বয়সে খেলোয়াড়রা অবসরের চিন্তা করে।
‘এ থেকেই বোঝা যায় পাকিস্তানের ক্রিকেট পদ্ধতি কতটা দুর্বল।’ ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটেও সাফল্য পাওয়া খান বলেন, সময় এসেছে বাংলাদেশ সফরের পর পাকিস্তানের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মত যে সকল দেশে আদর্শ অবকাঠামো রয়েছে আমাদের উচিত তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়া।’
‘শেফিল্ড শিল্ডে নিউ সাউথ ওয়ালসের হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আমি এক মৌসুম খেলেছি এবং আমি জোর গলায় বলতে পারি- বিশ্বে তাদের ক্রিকেট পদ্ধতি সবার সেরা যে কারণে সব সময় তারা শীর্ষে থাকে এবং যে কারণে তারা এ পর্যন্ত পাঁচ বার বিশ্বকাপ জয় করেছে।’
‘অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে মাত্র ছয়টি দল আছে। দেশের সকল খেলোয়াড় এই ছয় দলের হয়ে খেলে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় তারা এত বেশি ভাল ক্রিকেটার জন্ম দিতে পারে।
‘পক্ষান্তরে পাকিস্তানে রয়েছে ২০টি দল। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণেই এটা হয়েছে যে কারণে পাকিস্তানের মেধাবীরা ভাল সুযোগ পায় না।’
বুধবার গভর্নিং বোর্ডের বার্ষিক সভা শেষে ঘরোয়া অবকাঠামো পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা দিয়েছে পিসিবি। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী মান উন্নয়ন ও খেলোয়াড়দের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়াতে আঞ্চলিক দলগুলোকে স্পন্সরদের কাছে বিক্রি করবে পিসিবি।