সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতী এয়ারটেলের বাংলাদেশে ৪ হাজার এবং শ্রীলংকায় আড়াই হাজার টাওয়ার রয়েছে। এগুলো বিক্রি করে দিয়ে অন্য কোনো কোম্পানিকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর আগে ২০১২ সালে একই ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তাতে সফল হয়নি ভারতী এয়ারটেল। এছাড়া ২০১৪ সালের শুরুতেও একবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এয়ারটেল নিজেদের টাওয়ার নেটওয়ার্ক অবকাঠামো বিক্রি করে ২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। সুনীল মিত্তালের মালিকানাধীন ভারতী আফ্রিকা ও বাংলাদেশে তাদের টাওয়ার নেটওয়ার্ক বিক্রির জন্য আলাদা প্রস্তাবও পেয়েছিলেন বলে সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিলো ।
বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সেলফোন অপারেটর ভারতী এয়ারটেল বিনিয়োগ করে ২০১০ সালে। সে সময় ওয়ারিদ টেলিকমের ৭০ শতাংশ শেয়ার কিনে প্রতিষ্ঠা করা হয় এয়ারটেল বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে ওয়ারিদের কাছে থাকা বাকি ৩০ শতাংশ শেয়ারও কিনে নেয় সিঙ্গাপুরে ভারতী এয়ারটেলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভারতী এয়ারটেল হোল্ডিংস লিমিটেড। বাংলাদেশে ব্যবসা বৃদ্ধির ব্যাপারে তারা আশাবাদী হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক প্রবৃদ্ধি ছিল ১০২ শতাংশ, ২০১১ সালে ৫২, ২০১২ সালে ১৭ ও ২০১৩ সালে দশমিক ২৭ শতাংশ। আর ২০১৪ সালে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ গ্রাহক কমে যায় প্রতিষ্ঠানটির। তবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এয়ারটেল বাংলাদেশের গ্রাহক বেড়েছে ১৬ শতাংশের বেশি। বর্তমানে দেশের ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটরের মধ্যে গ্রাহক সংখ্যার ভিত্তিতে এয়ারটেল বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে এয়ারটেল বাংলাদেশের গ্রাহক সংখ্যা ৮৭ লাখ ৪৩ হাজার যা মার্কেট শেয়ারে ৭ শতাংশ মাত্র।
বাংলাদেশে এয়ারটেলের ব্যবসা বন্ধের বিষয়ে জানতে এয়ারটেলের গণমাধ্যম যোগাযোগ কর্মকর্তা শমিত মাহবুব শাহাবুদ্দিনের সাথে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করে কেটে দেন।