বায়রা প্রশাসন মোঃ আশরাফ হোসেনের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

 

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল রিত্রুুটিং এজেন্সি’জ (বায়রা) এর প্রশাসনিক কর্মকর্তার জনাব মোঃ আশরাফ হোসেনের প্রশাসনের দাবিতে ২১ জানুয়ারি সকালের রাজধানীর স্কাটলের বায়রার কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে মানববন্ধন করেন বায়রা সাধারণ সদস্যগণ।

বায়রার সাবেক সহ-সভাপতি আবু বারাকত ভূঁইয়া সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন এম টিপু সুলতান, এছাড়া মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পূবালী ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোঃ মহিন উদ্দিন, আল আকাব অ্যাসোসিয়েট এর স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান বিশ্বাস সহ অন্যান্য ভাইরাস সদস্যরা।

এ সময় বক্তারা বলে,

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জনাব ফিরোজ আল মামুন (চেয়ারম্যান)-এর নেতৃত্বাধীন বায়রা নির্বাচন বোর্ড গত ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ইং নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ইং ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বায়রা প্রশাসক জনাব মোঃ আশরাফ হোসেন-এর অনৈতিক ও অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাত্র একদিন পূর্বে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক নির্বাচন স্থগিত হয়।

প্রশাসকের অনৈতিক ও পক্ষপাতমূলক হস্তক্ষেপের কিছু উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত নিম্নরূপ-

১। অযৌক্তিক সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বায়রা নির্বাচনকে বানচাল করার লক্ষ্যে, জাতীয় নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে নির্বাচনের তফসিল ও নির্বাচনের দিন ধার্য করা।

২। বায়রা নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সরাসরি প্রভাবিত করে প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও অন্যায্য ও বে আইনিভাবে নতুন করে ১১৫ জন সদস্যকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।

৩। বায়রা কল্যাণ ফান্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতমূলক আচরণের মাধ্যমে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনেক সদস্যকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।

৪। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল পক্ষ ও নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ব্যালট পেপার সংক্রান্ত গৃহীত সম্মিলিত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারীভাবে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের মতামতের বিরুদ্ধে ব্যালট পেপার মুদ্রণে বাধ্য করা। ৫। দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ও বিশেষ আগ্রহে বায়রা সচিবালয়ে অপ্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ প্রদান করা।

এছাড়াও সদস্যদের স্বার্থ পরিপন্থী নানাবিধ কর্মকাণ্ডে বায়রা সচিবালয়কে তিনি ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিকভাবে ব্যবহার করছেন, যা সাধারণ সদস্যদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

 

ইতিপূর্বে বায়রা সহ প্রায় সকল ব্যবসায়িক ও পেশাজীবী অ্যাসোসিয়েশনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা প্রশাসক হিসেবে

নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আসছেন। কিন্তু এ বারের ‘বায়রা নির্বাচনে’ ব্যতিক্রমধর্মীভাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তর বিএমইটি-এর একজন কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

এই নিয়োগের বিষয়টি শুরু থেকেই বায়রা’র সাধারণ সদস্যদের মধ্যে নিরপেক্ষতা ও স্বার্থসংঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টি করে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, পরবর্তীকালে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহে আমাদের সেই আশঙ্কাই বাস্তব রূপ ধারণ করেছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক শুধুমাত্র নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জনাব মোঃ আশরাফ হোসেন-এর প্রশাসক হিসেবে মেয়াদ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইং পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও তিনি উক্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এমতাবস্থায়, বায়রা’র সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতকরণের স্বার্থে জনাব মোঃ আশরাফ হোসেন-কে বায়রা প্রশাসক পদ থেকে অপসারণপূর্বক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক অতিসত্বর একজন নতুন ও নিরপেক্ষ প্রশাসক নিয়োগ প্রদান একান্তভাবে প্রয়োজন।

Comments (0)
Add Comment