কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা : খালেদা জিয়ার আবেদনের রায় বৃহস্পতিবার

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদনের বিষয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রায় দেবে হাইকোর্ট। আজ (মঙ্গলবার) বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই দিন নির্ধারণ করেন। খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৩০ আগস্ট আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছিল।

আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার আহসানুর রহমান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি ও আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় একই বছরের ৫ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে মামলাটি বাতিল চেয়ে একই বছর হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে একই বছর ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। একই সঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না, তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

ওই মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও অপর আসামিরা হলে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, মরহুম এম শামসুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এস আর ওসমানী, সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জাম হোসেন।

এর আগে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা নিয়ে খালেদা জিয়ার করা দুটি রিট আবেদনের রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৫ আগস্ট হাইকোর্ট রুল খারিজ করে রায় দেয়। সেইসঙ্গে মামলার কার্যক্রমের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেয়া হয়।

এই রায়ের অনুলিপি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে করা খালেদা জিয়ার আবেদনেও একই রায় এসেছে। গত ১৮ জুন ওই রায়েও তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশেরপত্র/এডি/আর

Comments (0)
Add Comment