ভিডিও বার্তার তিন যুবকের পরিচয় মিলেছে

অনলাইন ডেস্ক: আইএসের প্রকাশিত ভিডিওতে বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার হুমকিদাতা বাংলা ভাষায় কথা বলা তিন যুবকের পরিচয় মিলেছে। সূত্রে জানা যায়, এদের মধ্যে একজন ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগী ও সাবেক এক নির্বাচন কমিশনারের ছেলে এবং একজন মডেল নায়লা নাঈমের প্রাক্তন স্বামী। মুখ ঢাকা যে যুবককে দেখা গেছে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সাবেক ছাত্র ছিল বলে জানা যায়।
ভিডিওতে প্রথমেই যে যুবককে দেখা গেছে, তিনি তাহমিদ রহমান শাফি ক্লোজআপ ওয়ান তারকা। ২০০৭-০৮ সালে ক্লোজআপওয়ান প্রতিযোগিতায় প্রথম দিকে ছিলেন তিনি। তাহমিদ সাবেক নির্বাচন কমিশনার সফিউর রহমানের ছেলে বলে তার সাবেক সহপাঠী ও সহকর্মীরা জানিয়েছেন। ২০০২ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ এবং আইবিএ থেকে এমবিএ করেন তিনি। পরে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে চাকরি নেন তাহমিদ। ২০১১ সালের মাঝামাঝি সেখানে ইস্তফা দেন। একটি সরকারি সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসে যোগ দিতে একবার বাবার কাছে অনুমতি চেয়ে ব্যর্থ হন তাহমিদ। পরে এক বছর আগে স্ত্রীকে নিয়ে সিরিয়ার যুদ্ধ কবলিত এলাকার উদ্দেশে পাড়ি জমান তিনি।
ভিডিওতে মুখঢাকা যুবক তৌসিফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সাবেক ছাত্র। বিবিএ ১৮ ব্যাচে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া শেষ না করেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়েন তিনি। তৌসিফ হোসেন জেএমবি সম্পৃক্ততার অভিযোগে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে তাকে পরিবারের পক্ষ থেকে অস্ট্রিয়া পাঠানো হয়। তবে সেখানে তিনি নেই বলে তার বন্ধুরা জানিয়েছেন।
ভিডিওর শেষে দেখানো মুখভর্তি দাড়িসহ যেই যুবককে দেখা যায় সে প্রয়াত মেজর ওয়াশিকুর আজাদের ছেলে তুষার আজাদ। তার সঙ্গে ২০১১ সালে মডেল নায়লা নাঈমের বিয়ে হয়। পরে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পেশায় দন্ত্য চিকিৎসক তুষার গত প্রায় দুই বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি এবং রাজউক থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। বারিধারার ডিওএইচএসে তাদের বাসা।
গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ অন্তত ২২ জন নিহত হওয়ার চার দিনের মাথায় বুধবার আইএসের নামে নতুন এই ভিডিও অনলাইনে আসে। ওই ভিডিওতে এই তিন যুবককে বাংলায় কথা বলতে শোনা যায়। সাইট ইন্টেলিজেন্সের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে বলা হচ্ছে, ওই ভিডিওবার্তা সিরিয়ার আইএস কথিত রাজধানী আর রাকাহ থেকে এসেছে।

Comments (0)
Add Comment