বেড়েই চলেছে সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্তের সংখ্যা। নতুন করে বৃহস্পতিবার ভারতে আরও পাঁচ জনের শরীরে এইচওয়ান-এনওয়ান ভাইরাসের হদিস মেলায় রাজ্যে সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৭। আক্রান্ত পাঁচ জনের সকলেই কলকাতার বাসিন্দা। রোগের প্রকোপ নিয়মিত বাড়ায় পাল্লা দিয়ে যখন বেড়ে চলেছে স্বাস্থ্যকর্তাদের উদ্বেগ, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মশার কামড়েও সোয়াইন ফ্লু হতে পারে’ মন্তব্যে তাদের অস্বস্তিও বাড়ল। ফলে, সোয়াইন ফ্লুয়ের দাপট সামলাতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে বেসামাল স্বাস্থ্যভবনের একাংশ। অপ্রস্তুত স্বাস্থ্যকর্তাদের একজনের বক্তব্য, ‘এ রোগ মোকাবিলায় সচেতনতাকেই যেখানে হাতিয়ার করার পরামর্শ দেওয়া হয়, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক।’ এ দিন বাংলাদেশ রওনা হওয়ার আগে বিধানসভায় এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য তথা দেশের সোয়াইন ফ্লু পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করার সময়েই এমন বেফাঁস কথা বলে ফেলেন। গোটা দেশের তুলনায় এ রাজ্যের পরিস্থিতি ঢের ভালো জানিয়ে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি অযথা আতঙ্কিত হতেও নিষেধ করেন তিনি। বলেন, রাজ্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিত্ুলি;সা পরিকাঠামো ও ওষুধপত্র-সহ সবই মজুত আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। এর পরই তিনি বলেন, ‘এ রোগের তো প্রতিষেধক নেই। প্রতিরোধ করতে হয়। আজ কাল তো মানুষ এখান থেকে সেখানে, ওখান থেকে এখানে অহরহ যাতায়াত করছে। বলা তো যায় না, কখন কী ভাবে এ রোগ সংক্রামিত হয়। মশার কামড়েও এ রোগ হতে পারে।’ এ দিকে বিশেষজ্ঞরা অবশ্য আড়ালে হাসাহাসি করছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মশার তত্ত্বে। তারা বলছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সম্ভবত মশাবাহিত ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া কিংবা জাপানি এনকেফেলাইটিসের জ্বরের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন সোয়াইন ফ্লুয়ের উপসর্গকে।’ কী ভাবে ছড়ায় সোয়াইন ফ্লুয়ের জীবাণু এইচওয়ান-এনওয়ান ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র পূর্ব ভারতের প্রধান দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, শুয়োর থেকে প্রাথমিক ভাবে এই রোগের জীবাণু মানবসমাজে ঢুকলেও, এখন কিন্তু এ রোগ মানুষ থেকে মানুষেই ছড়ায়। এই জীবাণুর আলাদা কোনও বাহক নেই, মূলত হাওয়ায় ভেসে বেড়ানোয় এমন ভাইরাসকে ‘এয়ারবর্ন’ শ্রেণিতে ফেলা হয় যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমেই সংক্রমণ ছড়ায় একজন থেকে অন্য জনের শরীরে।
ঘটনা হল, মুখ্যমন্ত্রী যেদিন প্রতিষেধক না-থাকার কথা বলেছেন, সে দিন (অর্থাৎ বৃহস্পতিবার) থেকেই সোয়াইন ফ্লুয়ের জন্য রাজ্যের শীর্ষ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের তরফে প্রতিষেধকের ব্যবস্থা করা হয়েছে ইচ্ছুক স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য। স্বাস্থ্যসচিব মলয় দে অবশ্য এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ব্যাপক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় ও আশানুরূপ ফল না-মেলায় এই প্রতিষেধক ব্যবহার করা হচ্ছে না সরকারি তরফে। আন্তর্জাতিক প্রোটোকলেও প্রতিষেধকের পক্ষে সুপারিশ করা হয় না। তবে কেউ ইচ্ছা করলে, প্রতিষেধক নিতেই পারেন।’