নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানীতে মাইক্রোবাসে গারো তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুই যুবক তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। বুধবার র্যাবের মিডিয়া শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। মঙ্গলবার রাতে কুয়াকাটা ও ঢাকা থেকে আশরাফ ওরফে তুষার এবং লাভলুকে গ্রেফতার করা হয়।
মুফতি মাহমুদ খান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুষার ও লাভলু নির্যাতনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা শিকার করেছে। এর মধ্যে তুষার ধর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারী। সে রাজধানীর একটি বায়িং হাউজে কর্মরত। তার সহযোগী লাভলু একই প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালক।
তিনি বলেন, এই ঘটনার মূল সূত্রপাত হয় গত ১৭ মে। ঐদিন তারা একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই বিদেশিকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের একটি বিপণী বিতানে যান। সেখানে তাদের সাথে ঐ নারীর পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তুষার তার মোবাইল নম্বর নেয়। এরপর ঘটনার দিন অর্থ ২১ তারিখ পর্যন্ত তুষার ঐ নারীকে ফোন করে। কথা বলার সময় তুষার তার চাকরি ও বেতন সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে। সে ভালো বেতনে অন্য জায়গায় চাকরি করতে চায় কিনা এমন প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করে।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে তুষার ঐ নারীকে ফোন করে জানায় তারা আশেপাশে আছে। রাত নয়টার দিকে কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে বাসের জন্য রাস্তায় দাঁড়ালে মাইক্রোবাস নিয়ে তুষার ও লাভলু তার সামনে আসে। এসময় তারা তাকে উত্তরা নামিয়ে দেয়ার কথা বলে হাত ধরে টেনে গাড়িতে ওঠায়। পরে চলন্ত গাড়িতে প্রথমে তুষার ও পরে লাভলু তাকে নির্যাতন করে।
গারো তরুণীকে ধর্ষণে পাঁচজন জড়িত ছিলেন প্রথমে এমন তথ্য জানালেও মুফতি মাহমুদ জানান, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে তারা দুইজনই ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হন ঐ তরুণী।