স্টাফ রিপোর্টার : মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে দশম জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট অধিবেশনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে সংসদকে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি অবৈধভাবে মানবপাচার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অবৈধ মানবপাচারের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতিমধ্যে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মানবপাচার প্রতিরোধে প্রতি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কাউন্টার ট্রাফিকিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন করা হয়েছে। আইনে মানবপাচারের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মানবপাচার একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা এবং মানব পাচারকারীরা আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো উন্নত ও অত্যাধুনিক ট্রেনিংয়ের লক্ষ্যে জাতীয় পরিকল্পনা ২০১২-১৪ প্রণীত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ছাড়াও মানবপাচার প্রতিরোধে জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা ২০১৫-১৭ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে, যা শিগগিরই প্রকাশিত হবে। এ ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মানবপাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির সভা প্রতি মাসে অনুষ্ঠিত হয়। মানবপাচার, বিশেষ করে নারী ও শিশুপাচার সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলার অগ্রগতি মনিটর করার বিষয় কমিটিতে পর্যালোচনা হয়।’
এ বিষয়ে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্রের আওতায় একটি সমীক্ষা পরিচালনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।