আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও ব্যবসার কাজে যেতে চাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন থেকে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা সর্বোচ্চ প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসেবে)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে নতুন এ নিয়ম কার্যকর হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব দেশের নাগরিকদের বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (ভ্রমণ) ভিসার প্রয়োজন হয় এবং যারা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত, তাদের ভিসা পাওয়ার জন্য এই বন্ড জমা দিতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যাতে কেউ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান না করেন (ওভারস্টে), তা নিশ্চিত করতেই এই জামানত পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
আগের তালিকার সঙ্গে গতকাল বাংলাদেশসহ নতুন ২৫টি দেশের নাম যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হলো। তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে—নেপাল, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, কিউবা, ফিজি, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, ভেনেজুয়েলা, জিম্বাবুয়েসহ আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ।
বন্ডের পরিমাণ ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার হতে পারে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার অফিসার এই পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ‘আই-৩৫২’ ফরম জমা দিতে হবে এবং মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হবে।
তবে এই জামানত জমা দিলেই ভিসা নিশ্চিত নয়। যদি ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় অথবা ভিসা পাওয়ার পর ভ্রমণকারী সঠিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং সব শর্ত মেনে চলেন, তবে সুদসহ এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় ভিসা প্রাপ্তদের নির্দিষ্ট কিছু বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও বহির্গমন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BOS), জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JFK) ও ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IAD)। অন্যথায় তাদের প্রবেশাধিকার বাতিল হতে পারে।