আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যের তুসকালোসাতে পুলিশের পেপার স্প্রে নিক্ষেপে নিহত হয়েছেন এক আফ্রো-আমেরিকান নিগ্রো। অ্যান্থনি ওয়্যার নামের ওই ব্যক্তির বয়স ৩৫ বছর।
পুলিশের মুখপাত্র বলেছেন, পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি করার সময় অ্যান্থনির ওপর পেপার স্প্রে (মরিচের গুড়োঁ) নিক্ষেপ করা হয়।
গ্রেফতারি পরোয়ানা ফাঁকি দেওয়ার দায়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। একটি বাড়ির বারান্দায় বসে থাকাকালে ছয় পুলিশ তাকে আটকের জন্য ওই এলাকায় যায়। ফোনে খবর পাওয়ার পরপরই ওয়্যারকে গ্রেফতারে ছুটে যায় পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে গা ঢাকা দেয় ওয়্যার। কিন্তু তার পিছু ছাড়েনি পুলিশ। ধরা পড়ার পরও ওয়্যার পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি চালিয়ে যান। এ সময় পুলিশ পেপার স্প্রে নিক্ষেপ করে এবং হাতে হাতকড়া লাগিয়ে দেয়।
তাকে নিয়ে পুলিশ জঙ্গল থেকে বের হয়ে আসার পর জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান ওয়্যার। পুলিশ সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মারা যান ওয়্যার।
ওয়্যারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি তদন্ত শুরু হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, পেপার স্প্রেতে পানি, অ্যালকোহল, কার্বনডাইঅক্সাইড, ফ্রেয়ন, টেট্রাক্লোরোথাইলিন, মিথাইলিন ক্লোরাইড এর মতো হ্যালোজেনেটেড হাইড্রোকার্বন ব্যবহার করা হয়। এসব রাসায়নিকের প্রভাবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যাঘাত ঘটে। এতে আক্রান্তের আকস্মিক মৃত্যুও হতে পারে।
পেপার স্প্রে প্রয়োগের কারণে ওয়্যারের মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটলো যখন অপ্রয়োজনে মাত্রারিক্ত বল প্রয়োগের ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের প্রচণ্ড সমালোচনা চলছে। এ জাতীয় বল প্রয়োগের অধিকাংশ ঘটনারই শিকার হয়েছে দেশটির আফ্রো-আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী।
মার্কিন অনেক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতেও প্রাণ হারাচ্ছেন কৃষ্ণাঙ্গরা। এ ধরনের কার্যকলাপের প্রতিবাদে বড় শহরগুলোতে পুলিশের বর্বরতার বিরুদ্ধে বড় আকারের একাধিক বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্র : মেইল অনলাইন।