অভিযানের শুরুতেই জঙ্গী আস্তানার ভেতর থেকে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের উপস্থিতিতে চালানো হচ্ছে এই অভিযান। ঘটনাস্থলের আশেপাশে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ।
শুক্রবার সকাল ৮টায় জঙ্গী আস্তানায় গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয় জঙ্গীদের লাশ ঘটনাস্থলেই পড়ে আছে। জঙ্গী আস্তানার চারপাশে এখনও ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা এলাকায় পতপত করে উড়ছে লাল পতাকা। ওই সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে গাড়ি করে এসে আস্তানার দিকে যেতে দেখা যায়। এদিকে রাতে যেসব পুলিশ সদস্য আস্তানা ঘিরে রাখার দায়িত্বে ছিলেন, সকালে তাদের সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায়। আশপাশের বাড়ির বাসিন্দাদেরও মাইকিং করে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিতে দেখা যায়। সকালে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকেও আস্তানার দিকে যেতে দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার অভিযানে পাঁচ জঙ্গী ও এক ফায়ার সার্ভিসের কর্মী নিহত হওয়ার পর বাড়ির ভেতরে অভিযান চালানোর জন্য এই বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের জন্যই অপেক্ষা করা হচ্ছিল। ঘটনাস্থলে পোঁছাতে তাদের দেরি হওয়ায় ওই রাতে অভিযান স্থগিত করা হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়- শুক্রবার সকালে বাড়ির ভেতরে অভিযান চালানো হবে। এই অভিযানের নাম হবে- ‘অপারেশন সান ডেভিল’।
অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট আসার পর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শুরু হয় অভিযান। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে গোদাগাড়ীর নিভৃতপল্লীর এই জঙ্গী আস্তানা ঘিরে ফেলে পুলিশ। এরপর ভেতরের সন্দেহভাজন জঙ্গীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু জঙ্গীরা এতে সাড়া দেয়নি। পুলিশ তখন ফায়ার সার্ভিসকে ডেকে পানি ছিটিয়ে বাড়ির পেছনের মাটির দেয়ালটি ধসিয়ে ফেলতে তৎপরতা শুরু করে।
এ সময় জঙ্গীরা বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আব্দুল মতিনের মৃত্যু হয়। আর আহত হন দুই পুলিশ সদস্য। এ ঘটনার পর দুই নারীসহ পাঁচ জঙ্গী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়।
তবে পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সুমাইয়া নামে এক নারী আত্মসমর্পণ করেন। এর আগে জঙ্গী আস্তানার পাশ থেকে সুমাইয়ার দুই শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জঙ্গীদের মধ্যে সুমাইয়ার বাবা, মা, ছোট ভাই ও বোন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম দিনের অভিযান স্থগিত করে জঙ্গী আস্তানার পাশেই এক ব্রিফিংয়ে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মাসুদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নিহত পাঁচ জনের চার জন একই পরিবারের। এরমধ্যে সাজ্জাদ ছিল ওই বাড়ির মালিক। স্ত্রী লুৎফুন্নেসা বেলি, ছেলে আলামিন ও মেয়ে কারিমাকে নিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে সে। নিহত আরেকজন আশরাফুল। সে বহিরাগত। অভিযানের সময় এক নারী তার দুই সন্তানসহ আত্মসমর্পণ করেছে বলেও জানান তিনি।
জঙ্গীদের লাশগুলো ঘটনাস্থলেই রয়েছে জানিয়ে মাসুদুর রহমান বলেন, লাশগুলো পুলিশ কর্ডন করে রেখেছে। রাতে এভাবেই থাকবে লাশগুলো। সকালে ফের অভিযান শুরু হলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সহায়তায় লাশগুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নিহত দমকল কর্মী আব্দুল মতিনকে গোদাগাড়ী উপজেলায় তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।