র্বজনরে মধ্যে দিয়ে পালতি হল রোকয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতষ্ঠিা র্বাষকিী

বেরোবি সংবাদদাতাঃ বিভিন্ন মহলের বর্জনের মধ্যে দিয়ে পালিত হল রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন না করায় এসব মহল অনুষ্ঠান বর্জন করেছে বলে জানা যায়।

সূত্রে জানা যায়, ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. নাজমুল হককে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়। এই কমিটি চিঠির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুষ্ঠানের বিষয়ে অবহিত করলেও অন্য কোন সংগঠনকে আমন্ত্রন না করায় তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।

সুত্রে আরো জানা যায়, আমন্ত্রন পত্র না দেয়ায় অনুষ্ঠানে যোগ দেননি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, অধিকাংশ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, জননেত্রী পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের একমাত্র সংগঠন সাংবাদিক সমিতি।

অনুষ্ঠানে যোগ না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী হল বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সংগঠন শিক্ষক সমিতি সহ অন্যান্য সংগঠন আছে বলে
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করেননা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রত্যেকবারের ন্যায় এবারও তার পছন্দ মত মুষ্টিমেয় কয়েকজন শিক্ষককে এই অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক করে অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দিয়েছেন। অথচ শিক্ষক সমিতিসহ এখানকার কোন সংগঠনকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি। এটি শিক্ষক সমাজের জন্য অপমান ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা সমিতির সিদ্ধান্তক্রমে অনুষ্ঠানে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি ছাত্রলীগ, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শিশির জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে ছাত্রলীগকে আমন্ত্রন জানানো হয়নি। তাই ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহমুদ হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজের ইচ্ছামত বিশ্ববিদ্যালয় চালাচ্ছেন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় দিবস সহ অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্রলীগ এবং সাংবাদিক সমিতিসহ অন্য কোন সংগঠনকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরের মত এবারও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়ায় আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।

অনুষ্ঠান বর্জনের কারন জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাকিবুর রহমান শাহীন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরের মত এবারও আমাদেরকে অনুষ্ঠানের বিষয়ে অবহিত করেনি। গত কয়েকটি অনুষ্ঠানে আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করলেও তারা আমাদেরকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করেনি। তাই সমিতির জরুরী সভার সিদ্ধান্তক্রমে অনুষ্ঠানে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক এবং অন্যান্য সংগঠনের অনুপস্থিতির কারন জানতে চাইলে অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ড. নাজমুল হক বলেন, আমরা সকল শিক্ষককে অনুষ্ঠানের বিষয়ে অবহিত করেছি। কেউ যদি না আসে তার দায়ভার আহ্বায়ক কমিটির নয়। তিনি আরো বলেন, শিক্ষক ছাড়া অন্য সংগঠনগুলোকে আমন্ত্রন জানানো হয়নি। কারন আমরা এর প্রয়োজন বোধ করিনি। ইতিপূর্বে কোন অনুষ্ঠানে শিক্ষক ছাড়া অন্যকোন সংগঠনকে আমন্ত্রন করা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ৫ই সেপ্টেম্বর একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ৭ম পঞ্চবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সকল সাংবাদিক।

Comments (0)
Add Comment