লক্ষীপুরে বিজয় দিবসে পতাকা উড়েনি আ’লীগের কার্যালয়ে


লক্ষীপুর প্রতিনিধি: মহান বিজয় দিবসে লক্ষীপুর সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোল করা হয়নি। ১৬ই ডিসেম্বর (শুক্রবার) জনতাবাজার দলীয় কার্যালয়ে দিন ব্যাপী বিজয় দিবসের কোন কার্যক্রম হাতে নেয়নি ক্ষমতাশীন দলটি নেতাকর্মীরা এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কোন শহীদ মিনারে দেখা যায়নি টুমচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ,যুবলীগও ছাত্রলীগ নেতাকমীরা বেশ কয়েকটি স্ট্যাটাস দিয়েছে ফেসবুকে। তবে দলটির অভ্যান্তরিণ কোন্দলের কারণে মহান বিজয় দিবসের কোন কর্মসূচি পালন করেনি এমনকি দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করেনি বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মীরা। ফলে নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ন-আহবায়ক কাজী মামুনুর রশিদ অয়ন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা লিখেছেন তা হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো, আপসোস!!! ২১ নং টুমচর ইউনিয়ন পার্টি অফিসে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কোন উদ্যেগ নেই আওয়ামী নেতাদের। ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে একটা মাইকের ব্যবস্থা নেই, ২১নং টুমচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতারা টাকা যাবে বলে মাইক ভাডা পর্যন্ত নেই না। ভাগের বেলায়, নমিনিশনের বেলায়, আগে বাডায় তারা। কিন্তু সংগঠন কি ভাবে চলবে সেই চিন্তা মাথায় থাকে না। ভাগে দু টাকা কম হলে আন্দোলন করে বেড়ায়। উপজেলা, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক মহাদয়ের কাছে বিনিত অনুরোধ, যারা সংগঠন বুঝেনা, সংগঠনে ভার নিতে পারবে না তাদেরকে এই দায়িত্ব দেওয়ার দরকার নেই। যাদের কাছে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ,ছাএলীগ,যুবলীগ অবমুল্যায়ন হয়। আমরা সেই নেতা চাই না। ইউনিয়ন ছাএলীগের দাবী,যুবলীগের দাবী, টুমচর আসাদ একাডেমী ছাত্রলীগ।
ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব মেহেদি মন্তব্য করেছেন, নিজের জন্য রাজনীতি, অপরের জন্য নীতি, এটি হলো ২১নং টুমচর ইউনিয়ন আ’লীগের কিছু নেতার খেলা। যুবলীগ নেতা লিটন হাজারী মন্তব্য করেছেন, পাবি আবার ভোট আসুক, সু-সময়ে বন্ধু বটে অনেকে হয় অসময়ে হায় হায় কেউ কারও নয়। শাকচর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মন্তব্য করেছেন, সঠিক কথা বলছো অয়ন। তাছাড়া ছাত্রলীগ নেতার স্ট্যাটাসে তিনি নিজেও গুম হওয়ার আশংকায় ভুগছেন বলে মন্তব্য করেছে।
টুমচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নুরুল আমিন লোলার বক্তব্য মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের উপরে উত্তেজিত হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মাস্টার বলেন, দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা না হলেও আমার অস্থায়ী কার্যালয়ে তা উত্তোলন করা হয়েছে।
এব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তদন্ত করে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments (0)
Add Comment