লালমনিরহাট হাতীবান্ধায় বোরো ধান ক্ষেতে ব্লাষ্ট রোগের আক্রমন, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

জাহাঙ্গীর আলম, হাতীবান্ধা  প্রতিনিধি: 

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় এবারের ইরি বোরো ধান ক্ষেতে ব্যাপকহারে ব্লাষ্ট রোগের আক্রমনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়, আক্রমণে শীষের গোড়া পচে সাদা ও তামাটে বর্ণের হয়ে গেছে। শেষ সময়ে ধানের শীষ শুকিয়ে সাদা ও পাকার মত হওয়ায় কৃষকের মাথায় হাত। দেখে মনে হয় ধান পেকেছে। তবে ধান শিষে গোড়া পচে শুকিয়ে শীষ তামাটে হয়ে গেছে। এতে কৃষকরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জাকির হোসেন, সিংগীমারী গ্রামের আজিজুল হক, আঃ রশিদ, বাড়াইপাড়া গ্রামের ওয়ালিউল্লাহ, রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, অনেক টাকা খরচ করে এবারে জমিতে ইরি বোরা ধান লাগানো হয়। ধান ক্ষেতে শীষ দেখে আনন্দে বুক ভরে যায় ,ক্ষেতে শীষ বের হওয়া শেষ হয়। কিন্তু অসময়ে এসে দেখি শীষ শুকিয়ে সাদা ও পাকার মত হয়ে পড়েছে। এতে আমাদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি সাধিত হয়। এর ক্ষতি পুশিয়ে উঠা আমাদের জন্য কষ্টকর। এভাবে হাতীবান্ধা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হারে ২৮ জাতের বোরে ধান ক্ষেত ব্লাষ্টার রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, এটা ছত্রাক জনিত রোগ। বীজের কারনে এ রোগ সৃষ্টি। অনেক কৃষক অসচেতনাতার কারনে ব্র্যাক’র বীজ দিয়ে আবাদ করায় এ ক্ষতি হয় বলে দাবি কৃষি কর্মকর্তার। কিন্তুু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, ক্রয়কৃত বীজের প্যাকেটে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা বিএডিসি লেখা ছিল। এ রোগে কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি সাধিত হলেও এলাকায় দেখা যায়নি কৃষি বিভাগের কোন মাঠ কর্মীদের অভিমত কৃষকদের। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের ইরি বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৩ শত ১৫ হেক্টর, কিন্তু অর্জিত হয় ১০ হাজার ৫ শত ৫০ হেক্টর। ধারনা করা হচ্ছে ব্লাষ্ট রোগে ধানের ক্ষতি সাধিত না হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফলন বেশী হত। এ রোগ নিরোধে কার্যকরী ব্যাবস্থা ও বীজের গুনগত মান সঠিক রাখার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবি সকলের।

Comments (0)
Add Comment