ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশের লক্ষ্য সিরিজ বাঁচানো আর দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৬৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১.১ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৫ রান। শুরুতেই ফিরে গেছেন তামিম ইকবাল।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক হাশিম আমলা। তবে বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে দাঁড়াতেই পারেনি তার দল। ৪৬ ওভারে মাত্র ১৬২ রানেই ইনিংস গুটিয়ে গেছে প্রোটিয়াদের। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বনিম্ন সংগ্রহ। এর আগে ২০০৭ বিশ্বকাপে ১৮৪ রানে অলআউট হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সেটা পরে ব্যাট করে। আর ওই ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে একবার হারিয়েছিল বাংলাদেশ
দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন ফাফ ডু প্লেসিস। প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিতে ৩টি করে উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান ও নাসির হোসেন। ২টি উইকেট নেন রুবেল হোসেন। এ ছাড়া একটি করে উইকেট জমা পড়ে মাহমুদউল্লাহ ও মাশরাফির ঝুলিতে।
মিরপুরে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মুস্তাফিজের বাউন্সার বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সাব্বির রহমানকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কুইন্টন ডি কক। ৯ বলে ২ রান করেন এই ওপেনার।
শুরুতেই ডি ককের বিদায়ের পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হাশিম আমলা ও ফাফ ডু প্লেসিস। তবে ইনিংসের ১৩তম ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে আমলাকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙেন রুবেল হোসেন। দারুণ এক ডেলিভারিতে আমলার স্টাম্প উপড়ে ফেলেনেএই সিরিজে আজই একাদশে সুযোগ পাওয়া রুবেল। ৩৭ বলে ২২ রান করেন আমলা। আমলা-প্লেসিস দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ২৯ রান।
এরপর ইনিংসের ১৯তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন নাসির হোসেন। ইনিংসে নিজের প্রথম বলেই রিলে রুশোকে বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান এই ডানহাতি স্পিনার। রুশোর ব্যাট থেকে আসে ৪ রান।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড মিলার বলেছিলেন, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ‘কিলার’ মিলারকে দেখা যাবে। তবে আজ ‘কিলার’ হওয়ার আগেই তাকে সাজঘরে ফেরত পাঠান মাহমুদউল্লাহ। এই স্পিনারের বলে শর্ট মিডউইকেটে দারুণ এক ক্যাচ নেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২৪ বলে মাত্র ৯ রান করেন মিলার।
দলীয় ৯৫ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটান নাসির। এক প্রান্ত আগলে রাখা ফাফ ডু প্লেসিসকে বিদায় করে ইনিংসে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন ডানহাতি এই স্পিনার। ডিপ মিডউইকেটে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৪১ রান করা ডু প্লেসিস।
৭ রানের ব্যবধানে জেপি ডুমিনিকে ফেরান মুস্তাফিজ। তার অফকাটারে শর্ট কভারে সাব্বিরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডুমিনি। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১০০ রান। এরপর দলীয় ১১৬ রানে ক্রিস মরিসকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন রুবেল। মাত্র ১১৬ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকতে থাকে প্রোটিয়ারা।
অষ্টম উইকেটে ফারহান বেহারদিন ও কাগিসো রাবাদা মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে রাবাদাকে ফিরিয়ে ২২ রানের জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ। আরেকটি অফকাটারে রাবাদাকে বোল্ড করেন বাংলাদেশের এই তরুণ তুর্কি। এরপর দলীয় ১৬০ রানে নাসির দক্ষিণ আফ্রিকার নবম উইকেট তুলে নেন। আর ২ রান পরেই শেষ উইকেট নেন মাশরাফি। ৪৬ ওভারে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেনের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন পেসার রুবেল হোসেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটে হেরে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে হেরে গেলে টানা তিন সিরিজ পর ওয়ানডে সিরিজ হারবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।
দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ : হাশিম আমলা, কুইন্টন ডি কক, ফাফ ডু প্লেসিস, রিলে রুশো, ডেভিড মিলার, জেপি ডুমিনি, ফারহান বেদারদিন, ক্রিস মরিস, কাইল অ্যাবোট, কাগিসো রাবাদা ও ইমরান তাহির।