মনিরুজ্জামান সুমন,ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নাদপাড়া গ্রাম থেকে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ৩ টি হিন্দু পরিবারের মধ্যে পুলিশের নিরাপত্তায় ২টি পরিবার ফিরে এসেছে। পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদাবাজ সস্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছে। পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়েছে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা।
গত শুক্রবার বিকালে চাঁদাবাজদের ভয়ে পালানো সমরেন মন্ডল বাড়িতে ফিরে আসেন। রোববার তার ভাই বিপুল মন্ডলও বাড়ি ফিরে আসেন। শৈলকুপা থানার ওসি এম,এ হাশেম খান তাদের নিরাপত্তা দিয়ে বাড়িতে তুলে দেন। পরিবার নিয়ে পালিয়ে যাওয়া দেবেন বিশ্বাস আজ কালের মধ্যে ফিরে আসবেন বলে ওসি এম,এ হাশেম খান জানান।
সমরেন বাড়ি ফিরে আসার পর গ্রামের লোকজন ওই বাড়িতে ভিড় করে। সারুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মামুন তার বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে সাহস দেন।
চাঁদাবাজদের ভয়ে পালানো হিন্দু পরিবারগুলোকে বাড়ি ফিরিয়ে এনে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুক্রবার বিকালে নাদপাড়া হাইস্কুল মাঠে পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাস দমন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের সহকারি পুলিশ সুপার গোপিনাথ কান্জিলাল, শৈলকুপা থানার ওসি এম,এ হাশেম খান, সারুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মামুন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিগন ও গ্রামবাসি। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব শৈলকুপার সভাপতি আলমগীর অরন্য,সাধারণ সম্পাদক শিহাব মল্লিক,সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন ও ইত্তেফাক পত্রিকার ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি বাবু বিমল কুমার সাহা।
সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে চাঁদবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দেওয়া হয়। গ্রামবাসি চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের দমনের দাবি জানান।
সমরেন মন্ডল জানান, মাস খানেক আগে সামান্য জমি বিক্রি করেন দেনা পরিশোধের জন্য। এরপর পাশ্ববর্তী আউশিয়া ও চরআউশিয়া গ্রামের একদল সন্ত্রাসী চাঁদা দাবি করে আসছিল। তারা সকাল, দুপুর ও রাতে মোটর সাইকেল যোগে বাড়িতে গিয়ে চাঁদার জন্য চাপ সৃষ্টি ও গালিগালাজ করতে থাকে। বাড়ি থেকে বের হলে সন্ত্রাসীরা মারধোরও করে। আতংকিত হয়ে সমরেন ও বিপুল ১ মে পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। এর এক মাস আগে একই গ্রামের দেবেন বিশ্বাসও চাঁদাবাজদের ভয়ে পালিয়ে যান। তিনি আরো বলেন, পুলিশ তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ায় বাড়ি ফিরে এসেছেন। তাদের মা নির্মলা রানী জানান, ছেলেরা ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তারা বাড়ি ফিরে আসায় তিনি খুব খুশি। অনুসন্ধানমূলক এই সংবাদটি প্রকাশের জন্য ঝিনাইদহের সহকারি পুলিশ সুপার গোপিনাথ কান্জিলাল সাংবাদিকদেরকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানান।