সালথায় পাঁচ মাসে ৮ খুন: ১৩ স্থানে সংঘর্ষ ও ভাংচুর!

আবু নাসের হুসাইন, সালথা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা-
ফরিদপুরের সালথায় ছয় মাসে ৮ জন খুন হয়েছে। এক জনের লাশ উদ্ধার ও দুই জন আত্মহত্যা করেছে। উপজেলার ১৩ টি স্থানে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে দেড় শতাধিক ব্যাক্তি আহত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ ইং সালের ২০ ফেব্র“য়ারী থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৮ জন খুন হয়েছে। এরা হলেন- ২০ ফেব্র“য়ারী রাতে আটঘর ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামের কৃষক নিরোধ চন্দ্র শিকদার (৬০) কে দূর্বৃত্তরা হত্যা করে। ৩ মার্চ দুপুরে ভাওয়াল ইউনিয়নের শিহিপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক বেলায়েত হোসেন দুলাল (৪৫) কে কুপিয়ে হত্যা করে মাদক সেবন কারীরা। ৫ এপ্রিল সকালে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের পুড়াগদি গ্রামে দু-দলের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের শড়কির কোঁপে হারুন মীর (৭২) মারা যায়। ১৪ এপ্রিল বিকালে সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে দু-দলের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ভেলার কোঁপে হাচান সর্দার (৪০) নামে এক ভ্যান চালক খুন হয়। ১৬ এপ্রিল রাতে গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ গ্রামের শুকুর মাতুব্বার (৫০) কে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে দূর্বৃত্তরা। ১৭ জুন রাতে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রামের মতিয়ার মাতুব্বার (৪০) কে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বল্লম দিয়ে কুপিয়ে খুন করে প্রতিপক্ষের লোকজন। ১লা জুলাই রাতে গট্টি ইউনিয়নের লক্ষনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য হাজ্বী মোঃ তেহারদ্দিন মাতুব্বার (৭০) কে কুপিয়ে খুন করে সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ যদুনন্দী ইউনিয়নের সাধুহাটি গ্রামে পুত্রবধুর হাতে আলেকজান (৪৫) নামে এক শাশুড়ী খুন হয়। অন্যদিকে ১৬ এপ্রিল সকালে বল্লভদি ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া এলাকায় তন্ময় পাল (১৩) নামে এক স্কুল ছাত্র টাওয়ারের উপর থেকে লাফ দিয়ে এবং ১৯ মে রাতে আটঘর ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে হরিদাস সরকার (৩০) নামে এক যুবক গলায় রশি নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এছাড়াও ৩০ এপ্রিল ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুরা গ্রাম থেকে জেসমিন বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে ৫ মাসে উপজেলার ১৩টি স্থানে সংঘর্ষ-হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সে গুলো হচ্ছে- ২৬ ফেব্র“য়ারী রাতে গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ গ্রামে দু-দলের সংঘর্ষে ২০টি বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে, এতে ১২ জন আহত হয়। ২৫ মার্চ সকালে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের পুরাগদি গ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষে ১০ ব্যাক্তি ও পূনরায় ৫ এপ্রিল সকালে দুপক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। ১৪ এপ্রিল বিকালে সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে দু-দলের সংঘর্ষে ভ্যান চালক খুনের ঘটনায় কমপক্ষে ৪০টি বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে, এতে ৮ জন আহত হয়। ৫ মে ভাওয়াল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩ জন আহত হয়। ১৪ মে রাতে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদি গ্রামের সুবোধ চন্দ্র মন্ডল প্রতিপক্ষের হামলায় মারাত্মক আহত হয়। ৩০ মে সকালে রামকান্তপুর ইউনিয়নের শৈলডুবি গ্রামে দুই মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষে মহিলাসহ ৫ জন আহত হয়। ৩১ মে দুপুরে বল্লভদি ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামে বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে দুগ্র“পের সংঘর্ষে ২৫ ব্যাক্তি আহত হয়। ১৬ জুন সকালে বল্লভদি ইউনিয়নের ভর-বল্লভদি গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩ ব্যবসায়ী মারাত্মক আহত হয়। ২১ জন সন্ধায় ২য় বার শৈলডুবি গ্রামে দু-দলের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। ২৫ জুন দুপুরে বল্লভদি ইউনিয়নের বল্লভদি গ্রামে ইব্রাহিম হোসেন প্রতিপক্ষের চোরাগুপ্তা হামলায় মারাত্মক ভাবে আহত হয়। ১০ জুলাই সন্ধায় রামকান্তপুর এলাকায় দু-গ্র“পের সংঘর্ষে ৮টি বাড়ি ভাংচুর ও ১০ ব্যাক্তি আহত হয়। সর্বশেষ ১৪ জুলাই সন্ধায় গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া এলাকায় গ্রাম্য দু-দলের সংঘর্ষে ৩০টি বসতঘর ভাংচুর করে। এসময় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়। এছাড়াও মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রামে মতিয়ার হত্যার ঘটনায় আনুমানিক ৪০ টি বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে বাদীপক্ষ। খারদিয়া, সাধুহাটি ও উজিরপুর এলাকায় এক সংঘর্ষে ২০টি বাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

উক্ত বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটিা হত্যা মামলাসহ ভাংচুর ও লুটপাটের মামলা হয়েছে। তবে মামলা গুলোর তদন্তের অগ্রগতি কি হচ্ছে তা এখনও জানা যায়নি।

Comments (0)
Add Comment