সিরাজদিখান প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ:
সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের পানিয়াচর গ্রাম থেকে নিজ মেয়েকে হত্যাকারী পাষণ্ড পিতা সাদেক আলী ও তার সহযোগী আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত রবিবার তাদের গ্রেফতার করে সোমবার মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। এর আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী ফারুককে ফাঁসাতে গিয়ে নিজ মেয়ে শ্যামলীকে (১১) শ্বাসরোধে হত্যা করে ওই পাষণ্ড পিতা ও তার দুই সহযোগী।
জানা গেছে, পানিয়ারচর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে প্রতিবেশী ফারুকের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ জমি সংক্রান্ত এবং টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো সাদেকের সাথে। এর জের ধরে সাদেক আলী ফারুককে ফাঁসাতে গত ২৩ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজ মেয়েকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সিংহ নদীর পাড়ে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলো হত্যার সহযোগী পানিয়াচর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক আলীর ছেলে আবুল এবং অপর সহযোগী আ. খালেক। রাত ৮ টার সময় সাদেক আলী, আবুল ও খালেক নৌকায় শ্যামলীকে তুলে সিংহ নদীর দক্ষিণ পাড়ে পানিয়ার চর এলাকায় নিয়ে আসে। তখন ১১ বছরের অবুঝ শিশু শ্যামলী বাবা সাদেক আলীর কোলে ঘুমিয়ে ছিল। রাত ১০টার দিকে বাবা সাদেকের কোলে ঘুমন্ত অবস্থায় খালেক শ্যামলীর হাত-পা বাঁধে এবং সাদেক আলী, আবুল শ্বাসরাধে শ্যামলীকে হত্যা করে লাশ সিংহ নদীর দক্ষিণ পাড়ে ফেলে দেয় ।
এদিকে মেয়ে খুঁেজ না পাওয়ার অভিনয় করে সাদেক আলী, ফারুখ তার মেয়েকে অপহরণ করেছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করে ।
পরে হত্যার ২দিন পর গত ২৫ মে স্থানীয় লোকজনের কাছে খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানা পুলিশ শ্যামলীর লাশ উদ্ধার করে। পরে ২৫ মে রাতে ফারুখ গংকে আসামী করে সাদেক বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় একটি হত্যা মামলা করে।
সিরাজদিখান থানার এস.আই আমিনুল ইসলাম জানান, সাদেকের কথা শুনে ও অন্যান্য পারিপার্শি¦ক বিষয়ে তার কাছে সন্দেহ হওয়ায় তিনি মোবাইল ট্রাকিং কারে সব রহস্য বের করেন। পরে ৩১ মে পাষণ্ড বাবা সাদেক আলী এবং সহযোগী আবুলকে পানিয়ারচর নিজ বাড়ি হতে আটক করে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ২ জনেই এই লোহমর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয় ।
এ ব্যাপরে সিরাজদিখান থানার এসআই আমিনুল বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সিরাজদিখান থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান, আসামী ২ জন গ্রেফতার হয়েছে, বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।