সিরিজ জিতলো ইংল্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক: উপমহাদেশীয় দলগুলোর মধ্যে এর আগে কেবল পাকিস্তানই টানা সাতটি সিরিজ জিততে পেরেছিল। সেই হাতছানিটা ছিল বাংলাদেশের সামনেও। তবে, সেটা ছোঁয়া হয়নি বাংলাদেশের। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের কাছে চার উইকেটে হারলো মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ফলে, ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় ইংল্যান্ড।
বাংলাদেশের করা ছয় উইকেটে ২৭৭ রানের জবাবে বুধবার উইকেট হারিয়ে ১৩ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জশ বাটলারের দল। অথচ, পরে ব্যাট করে এই মাঠে যে কোনো দলের সর্বোচ্চ স্কোর ২৩৯। ২০১০ সালে এই ইংল্যান্ডের ২৮৪ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ হেরেছিল ৪৫ রানে।
আর রান তাড়া করতে নেমে জয় পাওয়া দলের এই মাঠে সর্বোচ্চ স্কোর মোটে ২২৬। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে সেবারও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ডই। তবে, এবারের ম্যাচে আগের কোনো পরিসংখ্যান কাজে আসেনি। এমন কি এবারও উইকেটের ধরণও বদলে গেলো। টানা আড়াই দিন বৃষ্টিই কি তার কারণ?
ইংলিশদের হয়ে বেন ডাকেট ৬৩ ও স্যাম বিলিংস ৬২ রান করেন। এর বাদে প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বেন স্টোকস ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন। দুই পেসার মাশরাফি ও শফিউল দুটি করে উইকেট নেন।
এই একই ভেন্যুতেই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি শুরু হবে আগামী ২০ অক্টোবর। এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একাদশের বিপক্ষে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সফরকারীরা।
এদিন সিরিজে টানা তৃতীয়বারের মত টস হারেন মাশরাফি। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়া ইংল্যান্ডের ‍শুরুটা ভাল হয়নি। বাংলাদেশের ‍দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস মিলেই তুলে ফেলেন ৮০ রান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ওপেনিং জুটি।
যথাক্রমে ৪৫ ও ৪৬ রান করে তামিম ও ইমরুল বিদায় নেন। তিন নম্বরে নামা সাব্বির রহমান রুম্মানও আউট হন ৪০-এর ঘরে। হাফ সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে থাকতে তাকে সাজঘরে ফেরান আদিল রশিদ। এই আদিল রশিদকেই মোট চারজন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান উইকেট ‘উপহার’ দিয়ে এসেছেন।
৩০ থেকে ৪০ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশ তিনটি উইকেট হারায়। এই সময়ে করতে পারে মোটে ৪০ রান। সপ্তম উইকেট জুটিতে মুশফিকুর রহিম আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ৮৫ রানের জুটিতে সফরকারী ইংল্যান্ডের সামনে ২৭৮ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ।
২১ ইনিংস পর হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন মুশফিক। ৬২ বলে ৬৭ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক। এই ম্যাচে এই জুটি কিংবা মুশফিকের প্রত্যাবর্তনই বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি!

Comments (0)
Add Comment