আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ার বিদ্রোহীদের ওপর আবারো হামলা শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। সম্প্রতি দেশটির চিকিৎসা বিভাগের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে ওবামা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন, সরকার বিদ্রোহীদের দমনের নামে আবারও রাসায়নিক বোমা হামলা চালাচ্ছে দেশটিতে। যার শিকার হচ্ছে শতশত বেসামরিক সিরীয়। বিদ্রোহীরাও চালিয়ে যাচ্ছে পাল্টা হামলা। এই অবস্থায় সাধারণ সিরীয়দের প্রাণের নিরাপত্তা দিতে মার্কিন হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মানবাধিকারকর্মীরা।
একের পর এক হামলায় বিধ্বস্ত সিরিয়া। বুধবার দেশটির কুনিয়েত্রা প্রদেশে সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে আল নুসরা ফ্রন্টের সমর্থক বিদ্রোহীরা মর্টার হামলা চালায়। তারা জানায়, বাসার আল আসাদের সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত কোনভাবেই পিছপা হবে না।
আল নুসরা ফ্রন্টেরি একজন সমর্থক বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার নামে আমরা শপথ করে বলছি যে এই সরকার যা করছে তা কোনোভাবেই বৈধ হতে পারে না। আমরা সরকারের পতন চাই। আমাদের জেবা, তাল ক্রোম, শা’র, খান আরনাবেহ এবং আল বা’থ শহর থেকে আমরা চাই সরকার তাদের সৈন্যদের সরিয়ে নিক। আর এর জন্য যা করার দরকার আমরা তাই করব।’
সিরিয়ার বিদ্রোহীরা যখন সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে দিতে অগ্রসর হচ্ছে তখন আসাদ সরকার তাদের দমনের নামে গণহারে চালাচ্ছে ক্লোরিন গ্যাস বোমা হামলা। বুধবার ওয়াশিংটনে ওবামা প্রশাসনের কাছে এই অভিযোগ করেছেন সিরিয়ার মানবাধিকার এবং চিকিৎসা বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা আরও বলেছেন, সরকার বিদ্রোহীদের দমনে কোনো পরিকল্পনা মাফিক অভিযান চালাচ্ছে না, তাদের হামলার শিকার হচ্ছে হাসপাতালের অসুস্থ রোগী এবং স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সিরিয়ান আমেরিকান মেডিকাল সেন্টারের কর্মকর্তা মুহাম্মাদ তিন্নারি বলেন, ‘আমি সিরিয়ার ইদলিবে থাকি। আমি নিজের চোখে দেখছি সেখানকার সরকার কি করছে। অনবরত সেখানে হেলিকপ্টার থেকে বোমা ফেলা হচ্ছে। আর কোথায় ফেলছে তারা সেগুলো। কখনও কোনো আবাসিক এলাকা উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে,আবার কখনও ছোট ছোট শিক্ষার্থী মারা পড়ছে তাদের হামলায়।’
এই অবস্থায় ওবামা প্রশাসনকে সিরিয়ায় নো ফ্লাই জোন বা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা জন্য আহ্বান জানিয়েছে দেশটিতে কর্মরত বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।
হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রাম মহাপরিচালক অ্যান স্প্যারো বলেন, ‘দেশটিতে নো বম্ব জোন বা অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করা খুবই জরুরি; কারণ, এটি একমাত্র উপায় সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন কমানোর। সরকার সেখানে যেই ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করেছে এতে যুক্তরাষ্ট্রের মত আন্তর্জাতিক শক্তি এগিয়ে এসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা না করলে কোনোভাবেই সেখানে গৃহযুদ্ধের ইতি টানা সম্ভব হবে না।’
টানা ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা গৃহযুদ্ধে সিরিয়ায় অন্তত আড়াই লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যার বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।