সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নে গুণতে হবে ১০০-১০০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে তা পুনরায় নিতে ১০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকর হবে। এর আগ পর্যন্ত মতো বিনা খরচেই জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়ন করা যাবে। সোমবার নির্বাচন কমিশন এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের গেজেট প্রকাশ করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এখন থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে ফি নেওয়া শুরু হবে পয়লা সেপ্টেম্বর। প্রথমবার বিনামূল্যে জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন নাগরিকরা। এ কার্ডের মেয়াদ হবে ১৫ বছর। নির্ধারিত সময়ের পর এ জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নেও নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র হারানো, তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় পরিচয় অনুবিভাগ থেকে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ফি নেওয়ার বিধান রেখে একটি বিধিমালা জারি করে ইসি। কিন্তু ওই বিধিমালায় ফি বা চার্জ আদায়ের সময়ক্ষণ নির্ধারিত ছিল না। বর্তমানে এ সুযোগে বিনামূল্যে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা পেয়ে আসছেন নাগরিকেরা।

বিধিমালা অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত সেবায় ফি আদায় চালু করতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিধিমালা-২০১৪-এর বিধি ৮ এবং জাতীয় পরিচয় ও সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত (সংশোধন যাচাই এবং সরবরাহ) প্রবিধানমালা-২০১৪-এর ১২ ধারা প্রজ্ঞাপন জারি করে কার্যকর করল কমিশন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত সেবা পেতে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে নাগরিকদের। এতে দেখা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে প্রথমবার আবেদনে ২০০ টাকা, দ্বিতীয়বার আবেদনে ৩০০ টাকা ও পরবর্তী যেকোনো বার আবেদনে ৪০০ টাকা, তথ্য-উপাত্ত সংশোধনে প্রথমবার আবেদনে ১০০ টাকা, দ্বিতীয়বার আবেদনে ২০০ টাকা ও তৃতীয়বার আবেদনে ৩০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ব্যক্তি কর্তৃক জাতীয় পরিচয়পত্রের সঠিকতা যাচাইয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে ১০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা ও জরুরি ভিত্তিতে নবায়নে ১৫০ টাকা, হারানো বা নষ্ট হওয়ার কারণে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে প্রথমবার সাধারণ আবেদনে ২০০ টাকা ও জরুরি আবেদনে ৩০০ টাকা, দ্বিতীয়বার সাধারণ আবেদনে ৩০০ টাকা ও জরুরি আবেদনে ৫০০ টাকা এবং পরবর্তী যেকোনো সাধারণ আবেদনে ৫০০ টাকা ও জরুরি আবেদনে ১ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।

বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন, হারানো কার্ড ওঠানো, সংশোধনের ক্ষেত্রে কোনো ফি আদায় করা হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ইসির তথ্য অনুযায়ী ৯ কোটি ৬২ লাখের মতো ভোটারের তথ্য রয়েছে। অাগস্ট থেকে এসব নাগরিককে উন্নত মানের স্মার্ট আইডি কার্ড দেওয়ার কথা রয়েছে।

Comments (0)
Add Comment