দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার শিক্ষাবঞ্চিত অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আপ্রাণ প্রচেষ্টার ফল “মহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর মাধ্যমিক বিদ্যালয়”। উপজেলার সর্বদিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া এলাকার মধ্যে হাওড় অঞ্চল বিশেষ করে অবহেলিত ৯নং সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর, নূরপুর, সোনাপুর, হাছন বাহার, বৈঠাখাই, বড়কাটা, সোলতানপুর গ্রামগুলো অন্যতম। প্রায় ১৫ হাজার লোকের বসবাস এই গ্রামগুলোতে। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, কুসংস্কার, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জনসংখ্যার ঘনত্বসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এই বৃহত্তর জনগোষ্ঠী। জীবন সংগ্রামে এক দিকে বিরূপ প্রকৃতির অপর দিকে কঠিন বাস্তবতার সাথে লড়তে হয় এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর। শিক্ষার হার সর্বনিম্ন থাকায় এদের বেশির ভাগই মাছ ধরা, সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ ইত্যাদি পেশায় নিয়োজিত। সারাদেশে যখন ডিজিটালের জোয়ার বইছে, শিক্ষার প্রসার ঘটছে এদিকে তখন কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাসের ছড়াছড়ি। শিক্ষাবঞ্চিত পিছিয়ে পড়া এই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে অত্র এলাকার মানুষের স্বউদ্যোগ, দীর্ঘদিনের আপ্রাণ প্রচেষ্টা এবং সুনামগঞ্জ-৫ ( ছাতক-দোয়ারা)’র বর্তমান সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক এর সার্বিক সহযোগিতায় হাওড় অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় “মহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর মাধ্যমিক বিদ্যালয়”। আশার কথা এই যে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি উক্ত প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়াঙ্গন সর্বক্ষেত্রে যথেষ্ঠ সুনাম অর্জন করে আসছে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখনো বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান করে আসছেন, যা এক অনন্য নজির। বর্তমানে উক্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তথাপিও দুঃখের বিষয় এই, অত্র বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয় নি। অন্যদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ কোন পারিশ্রমিক না পাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দের সাংসারিক খরচ চালানো এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এমপিওভুক্তি না হওয়ায় হতদরিদ্র ও সর্বদিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর পক্ষে উক্ত প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা অসম্ভব প্রায় হয়ে পড়েছে। আর্থিক অনটনের কারণে দক্ষ শিক্ষক রাখা সম্ভবপর হচ্ছে না। ফলে সুষ্ঠু গুণগত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাওড় অঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে অবিলম্বে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হোক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকার এখন কোন প্রতিষ্ঠান এমপিও নিচ্ছে না। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, এমপিওভুক্ত না হওয়ায় সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দের পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাওড় অঞ্চলের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা। এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ কামনা করে বলেন, অধিকার বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দুঃখ দুর্দশার কথা চিন্তা করে এবারের বাজেটে অত্র বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দাবি দাওয়া পূরণ করা হোক।