স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও রংপুরের শহীদ রাবেয়া খাতুনের পরিবার অবহেলিত

শহীদ রাবেয়া খাতুন

রংপুর প্রতিনিধি: স্বাধীনতাযুদ্ধের ৪৫ বৎসর পরও শহীদ রাবেয়া খাতুনের পরিবার অবহেলিত হয়ে আছেন। কেউ তার পরিবারের খোঁজ রাখেন না। সাহায্য সহযোগিতা দূরের কথা শহীদের স্বীকৃতি, যথাযথ সম্মান পর্যন্ত পায়নি এই পরিবারটি। শুধুমাত্র সান্ত্বনা শহীদ হিসেবে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত একটি সনদপত্র এবং দুই হাজার টাকার একটি চেক।
শহীদ রাবেয়া খাতুন রংপুর জেলা প্রশাসক অফিসের ল্যান্ড রিকুইজিশান অফিস সহকারী এসএম আব্দুল বারী’র স্ত্রী। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে ৯ই ডিসেম্বর বিকেলে বিমান আক্রমণের সময় রাজাকারদের অবিরাম গুলিতে শহরের কেরানীপাড়াস্থ বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। পরে সেই বাসায় পারিবারিকভাবে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।
স্বাধীনতা উত্তরকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি চিঠি ও দুই হাজার টাকার একটি চেক ছাড়া এই দীর্ঘ সময়ে আরও কেউ তার পরিবারের খোঁজ রাখেনি। আর্থিক সাহায্য অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণও জানানো হয় না শহীদ সন্তানকে। বর্তমানে তার চার সন্তানের মধ্যে মাত্র একজন বেঁচে আছেন। তার সন্তান শাহ মোহাম্মদ রায়হান বারী বিষয়টি জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে গত ২১শে সেপ্টেম্বর একটি আবেদন করেছেন। যার অনুলিপি জেলা প্রশাসক বরাবরে পাঠানো হয়েছে। এরপরও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয় হয়নি।
এ ব্যাপারে শহীদ মাতার সন্তান শাহ মোহাম্মদ রায়হান বারী’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, দেশ বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তিকে বর্তমান স্বাধীনতার পক্ষের সরকার যথাযথ সম্মান ও আর্থিক সহায়তা দিলেও তাদের পরিবারের খবর কেউ রাখেনি। একজন শহীদের সন্তান হয়ে কোন অনুষ্ঠানেও তাকে ডাকা হয় না বলেও তার আক্ষেপ। তিনি আশা করেন বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা এ বিষয়টি অনুধাবন করবেন এবং এ ব্যাপারে শহীদ পরিবারের খোঁজ নেবেন।

Comments (0)
Add Comment