জাহাঙ্গীর আলম রিকু, হাতীবান্ধা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নিখোঁজের ৪ দিন পর গত বৃহস্পতিবার (২জুন) বিকেলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে মিলল স্কুল ছাত্র রিপন মিয়ার (১৪) লাশ। সে গত ২৯ জুন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন । ময়না তদন্ত শেষে ঐ দিন সন্ধা ৭ টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হবে মর্মে শহরে মাইকিং করা হয়েছে। রিপন উপজেলা সিংগীমারী ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর পুত্র। সে হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন সেকেন্দারের পুত্র স্বপন (১৬), আমের আলীর পুত্র সজীব (১৭), মহির উদ্দিনের পুত্র ফজলু মিয়া (১৮), ছলিমুদ্দিন এর পুত্র আসাদুজ্জামান (১৭) ও আঃ জলিলের পুত্র উপজেলা পরিষদের নৈশ্য প্রহরী জয়নাল আবেদীন (৪০)। উভয়ের বাড়ি উপজেলার সিংগীমারী গ্রামে। ছয় মাস আগে ১৯ জানুয়ারি রিপনের লাশের ১ শ’ গজ উত্তরে পরিষদ চত্ত্বরের কৃষি অধিদপ্তরের অপর এক পরিত্যক্ত ভবনে ১ম শ্রেণির স্কুল ছাত্র উল্ল্যাসের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরিষদের পরিত্যক্ত ভবনে ছয় মাসের ব্যবধানে ২টি শিশুর হত্যাকান্ডের ধরন একই ছিল।কিন্তু পুলিশ আজও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে স্কুল ছাত্র রিপন নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা গত মঙ্গলবার ৩০ জুন স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। পুত্রের সন্ধান পাওয়ার আশায় স্থানীয় ২টি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেন তিনি। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (২জুন) বিকেলে উপজেলা চত্ত্বরের অফিসার্স ক্লাব সংলগ্ন একটি পরত্যক্ত ভবন থেকে দূর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন। আটককৃতদের মধ্যে স্বপন ও সজীব ১ম শ্রেণির ছাত্র উল্ল্যাস হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়ার পর কিছুদিন আগে যশোর কিশোর শোধানাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে। এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা থানার ওসি আঃ মতিন প্রধান বলেন আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, রিপনের পরিবারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত মামলা দেয়া হয়নি। নিহত স্কুল ছাত্র রিপনের পিতা আইয়ুব আলী বলেন, ছেলের দাফন শেষে মামলা দেয়া হবে।