হাত মেলালেন ওবামা ও ক্যাস্ত্রো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পানামায় অনুষ্ঠিত আমেরিকাস্ শীর্ষ সম্মেলনে করমর্দন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রো। শুক্রবার দীর্ঘ সময় ধরে বিবদমান দেশদুটির প্রধানদের  এই করমর্দন অতীতকে পেছনে ফেলে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক প্রত্যয়ের প্রতীকী প্রকাশ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষরা। ওইদিন শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে করমর্দনের পর ওবামা ও ক্যাস্ত্রো অন্য কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা, উভয় দেশের প্রেসিডেন্টের পরনে ছিল গাঢ় রংয়ের স্যুট। দুনেতা করমর্দন করেছেন ও কিছুক্ষণ কথা বলেছেন, এটি ওয়াশিংটন থেকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। “এটি অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ ছিল এবং এতে দুই নেতার মধ্যে অর্থপূর্ণ কোনো আলোচনা হয়নি,” জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। শনিবার ওবামা ও ক্যাস্ত্রো আবার মিলিত হবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক এ সাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে এবং দুইদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ভ্রমণ নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। পানামাতে অনুষ্ঠিত আমেরিকার দেশগুলোর এই শীর্ষ বৈঠকে কিউবা-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিসেম্বরে দুনেতা পরস্পরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার মধ্য দিয়ে দুদেশের সর্ম্পকের বরফ গলতে শুরু করে। শুক্রবার সকালে ওবামা বলেছেন, “সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু করলেও সরকারের সঙ্গে সরকারের পার্থক্য বিবেচনায় কিউবার সঙ্গেও আমাদের অনেক পার্থক্য থাকবে। যেমন আমেরিকাসদের ভিতরে অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে, যেমন আমরা আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় ভিন্নমত পোষণ করি।” তবে ৫৩ বছর বয়সী ওবামা এও বলেছেন, অতীতের মতো ল্যাটিন আমেরিকার ওপর আর নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছা চাপিয়ে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, “সেই দিনগুলো যখন এই গোলার্ধের বিষয়ে আমরা মনে করতাম, যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো দেশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে, ওই দিনগুলো অতীত হয়ে গেছে।” আমেরিকার দুই মহাদেশের সবগুলো দেশের এ শীর্ষ সম্মেলনে এবারই প্রথমবারের মতো উত্তর,  মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ৩৫টি দেশের মধ্যে সবগুলো যোগ দিয়েছে। গেল শীর্ষ সম্মেলনে কিউবার অংশগ্রহণে আপত্তি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, আর কিউবার ওপর আরোপ করে রাখা নিষেধাজ্ঞার জন্য সম্মেলনে সমালোচিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবারের সম্মেলনে সেই কিউবা-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সম্পর্ক সূচনার বিষয়টিই সম্মেলনের কেন্দ্রীয় মনযোগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Comments (0)
Add Comment