নিজস্ব প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম এর বাকলিয়া এলাকায় একটি চায়ের দোকানে সংঘটিত একটি ঘটনার জেরে নিরীহ দোকানদার মোঃ রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, রাতে দোকানের সামনে একটি সিএনজি নিয়ে দুই ব্যক্তির মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে একজন পালিয়ে যায় এবং অপরজন সিএনজি নিয়ে চলে যায়। এ সময় দোকানদার রফিকুল ইসলাম দোকানেই ছিলেন এবং সরাসরি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে স্থানীয়দের দাবি।

ঘটনার ১০-১৫ মিনিট পর ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা এসে তাকে আটক করে। অভিযোগ রয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে মারধর করা হয় এবং পরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন আদালতে তাকে প্রধান আসামি হিসেবে হাজির করা হয়। অভিযোগ—তিনি সিএনজি “ধরে রাখেননি”।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সার্জেন্ট এসএম রিয়াজুর রহমান বলেন, দোকানদারের “একটাই দোষ”—তিনি গাড়িটি নিজের হেফাজতে রাখেননি। অর্থাৎ, পুলিশ সোর্সের তথ্য অনুযায়ী গাড়ি চলে যাওয়ার দায়ও তার ওপর বর্তায়।
অন্যদিকে, টিআই আঃ সাইদ বাকার বলেন, “ও চাইলে গাড়ি আটকাতে পারতো।”

তবে এ বক্তব্য ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—একজন সাধারণ দোকানদার কি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিতে বাধ্য? যদি তিনি বাধা দিতে গিয়ে মারধরের শিকার হতেন, তাহলে সেই দায় কে নিত—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।

১৩ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন রফিকুল ইসলাম। তার দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। বর্তমানে তার ছোট ব্যবসা বন্ধ থাকার কারণে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রকৃত দোষীদের পরিবর্তে একজন নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Comments (0)
Add Comment