বিএনপির বিকল্প হতে চায় জাতীয় পার্টি

এরশাদ বলেন, এটি করতে আমাদের সময় লাগবে। কারণ আমি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। তিনি আমাকে সম্মান দিয়েছেন, তাই তার সাথে আমাকে কথা বলতে হবে। আমি যদি বেরিয়ে আসতে পারি তাহলে বাকি মন্ত্রীদেরও বেরিয়ে আসতে বলব, যে আমরা একটি সত্যিকার জাতীয় পার্টি গড়ি এবং বিরোধী দল করি। আমি আশা করছি যে এটি হবে এবং এটি হতে সময় লাগবে। মানুষ বিএনপিকে চায় না, বিএনপির অতীত ভাল নয়।
৫ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের পর রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়ে সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রীর আসনে বসেছেন। তার সমর্থন হিসেবে পরিচিত জিয়াউদ্দিন বাবলু হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব। ফলে জাতীয় পার্টিতে রওশন এরশাদের নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে এবং জেনারেল এরশাদের নিয়ন্ত্রণ কমেছে এমন আলোচনা ছিল জাতীয় পার্টির ভেতরে। তবে হঠাৎ করে এরশাদ তার ভাই জিএম কাদেরকে পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবং জিয়াউদ্দিন বাবলুকে বহিস্কার করে রুহুল আমিন হাওলাদারকে দলের মহাসচিব নিয়োগ করেন। জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠকে এরশাদের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরা হয়। এর আগে রওশন এরশাদকে তার সমর্থকদের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব হিসেবে ঘাষণা করা হয়েছিল। দু’পক্ষের দৃশ্যমান তৎপরতায় জাতীয় পার্টিও ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি আবার সামনে আসে। তবে এরশাদ বলেছেন এবার তার দলের ভাঙনের কোনো সম্ভবনা নেই। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেছেন তার সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করার এখতিয়ার সংসদীয় দলের নেই।
জেনারেল এরশাদ বলেন, আমি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং আমার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাই আমি আমার ভাইকে কো-চেয়ারম্যান করেছি এবং রুহুল আমিনকে মহাসচিব করেছি। কারণ আমাদের বয়স হয়েছে, সেই বিবেচনা করেই আমি একাজ করেছি।
এরশাদ বলেন, এ বিষয়ে কারো সাথে আলোচনা করার কিছু নেই। কারণ রওশন এরশাদের সাথে আমার পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কারণ সে সংসদীয় দলের নেতা এবং আমি জাতীয় পার্টির নেতা। একটি পার্টি পরিচালনা করতে অর্থ এবং শ্রমের প্রয়োজন হয় তাই যাকে তাকে ক্ষমতা দেওয়া যায় না।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার প্রশ্নে এইচ এম এরশাদ তার বক্তব্য বার বার পরিবর্তন করায় জাতীয় পার্টিও বিশ্বাস যোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। সেই নির্বাচনে গঠিত সংসদে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসলেও দলটির চারজন নেতা সরকারের মন্ত্রীসভায় রয়েছেন। এরশাদ নিজেও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে রয়েছেন। অনেকদিন ধরেই জেনারেল এরশাদ বলে আসছেন যে তারা সরকার থেকে বেরিয়ে আসবেন। এখনও তিনি তার ভাইকে কো-চেয়ারম্যান করা এবং দলের মহাসচিব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বলেছেন তারা এবার সত্যিকার বিরোধী দল হয়ে বিএনপির বিকল্প হিসেবে দাঁড়াতে চান। তবে জাতীয় পার্টির এবারের এই সংকট কোনে দিকে মোড় নেয় সে ব্যাপারে দলটি এখনও পরিস্কার নয়।

Comments (0)
Add Comment