১৯৯৯ বিশ্বকাপের দুঃসহ স্মৃতি কী আবার ফিরে এলো দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য? সেবার স্টিভ ওয়াহর ক্যাচ মিস করে দলকে বিপদে ফেলে দিয়েছিলেন হার্শেল গিবস। এরপর সেমিফাইনালে অ্যালান ডোনাল্ডের সেই পাগলাটে দৌড়ের ভুলের কারণে ফাইনাল খেলতে পারেনি প্রোটিয়ারা। আর এবার সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কোরি এন্ডারর্সনকে সহজ আউট মিস করে বসলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। সঙ্গে সঙ্গেই বোদ্ধারা বলতে শুরু করে দিলেন, আহা! কী ভুলটাই না করে ফেললেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। এই ভুলের খেসারতই না শেষ পর্যন্ত দিতে হয় আবারও দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ৩২তম ওভারের তৃতীয় বলের ঘটনা। স্টেইনের করা বল গ্রান্ট ইলিয়ট পয়েন্টে ঠেলে দেন। রান নেয়ার জন্য অ্যান্ডারসন ইলিয়টকে ডাক দেন। তবে ইলিয়ট তাকে ফেরত যেতে বলেন। পয়েন্ট থেকে ফিল্ডার বল ধরে নন স্ট্রাইক প্রান্তে ব্যাক-আপে থাকা ডি ভিলিয়ার্সকে দেন। এসময় অ্যান্ডারসন মাঝ মাঠে ছিলেন। বল ধরতে ব্যর্থ হন ডি ভিলিয়ার্স। স্ট্যাম্পে হাত লেগে বেল পড়ে যায়। উল্টে পড়ে এন্ডারসন ক্রিজে পৌঁছার আগে স্ট্যাম্প ভাঙার চেষ্টা করেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। কিন্তু বেল না থাকায় সেই নিশ্চিত রান আউট থেকে বেঁচে যান এন্ডারসন। ওই সময় তিনি ক্রিজে ছিলেন ৩৩ রানে। শেষ পর্যন্ত এন্ডারসন করেন ৫৮ রান। অপর প্রান্তে থাকা গ্র্যান্ট ইলিয়টও বেশ কয়েকবার জীবন পেলেন। রান আউট থেকে বাঁচলেন, ক্যাচ থেকে বাঁচলেন। এবং সেই ইলিয়টই ৮৪ রান করে জিতিয়ে দিলেন নিউজিল্যান্ডকে। চোকার্স বানিয়ে দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ব্যাট হাতে গোটা টুর্নামেন্ট ধরে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করা ডি ভিলিয়ার্স সেমিফাইনালেরমতো নকআউট ম্যাচের চাপ নিতে না পেরে অমার্জনীয় ভুল করেই বসলেন এবং তার দলকে ফাইনালে তোলার আগে ফের চোকার্স বানিয়ে ফেরত পাঠালেন দেশে।