পিঠা বিক্রি করে ঢাকায় ফ্ল্যাট বাড়ি!

অনলাইন ডেস্ক: লুতফা বেগম । বাড়ি বরিশালের গৌরনদী এলাকায়। ঢাকায় আছেন প্রায় ২৮ বছর যাবত। পেশায় একজন পিঠা বিক্রেতা এই নারী । পরিশ্রমের মাধ্যমে অসাধ্যকে সাধন করেছেন তিনি। শুরুতেই উনার স্বামী রিকশা চালাতেন। আর লুতফা বেগম কাজ করতেন ফকিরাপুল, আরামবাগের বিভিন্ন মেসে। আজ থেকে প্রায় পনেরো বছরে আগে ফকিরাপুল মোড় থেকে পিঠা বিক্রি শুরু করেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত চলছে লুতফা বেগমের জীবন সংগ্রাম।
মতিঝিল সিটি সেন্টারের নিকটবর্তী উত্তরা ব্যাংকের কাছে কথা হয় লুতফা বেগমের সাথে। তখন পিঠা বিক্রি করছিলেন তিনি। তিনি নিজেই জানালেন তার সাফল্যের কথা।
লুতফা জানান, এলাকায় তেমন যান না, তবে একটি বাড়ি করেছেন যেখানে তার ভাই বোনেরা থাকেন, ঢাকার আরামবাগের কিনেছেন একটি ফ্লাট, বড় ছেলে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বেশ আগেই লন্ডনে আছেন। ছোট দুই মেয়ে পড়ছেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে উনার স্বামী হাসেম গাজী এখন আর রিকশা চালান না। প্রতিদিন হাশেম গাজী শ্যামপুর থেকে চাউলের গুঁড়া আনেন আর লুতফা বেগমের কাজে সহযোগিতা করেন।
কথা বলার একপর্যায়ে লুতফা বেগম তার কষ্টের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, একসময় ঘর ভাড়া দিতে পারতেন না লুতফা। স্বামী হাসেম গাজী একবার অসুস্থ হলে ঠিকমতো ছেলেমেয়েরা খেতে পায়নি, তবুও লুতফা বেগম হাল ছাড়েননি।
এখন লুতফা বেগমের ছেলেমেয়েরা তাকে আর এই পেশায় দেখতে চাননা। কিন্তু লুতফা বেগম শরীরের শক্তি থাকা পর্যন্ত এই পিঠা বিক্রি ছাড়বেন না, শুধুমাত্র টাকার জন্য তিনি এটা করেননা। তার বানানো পিঠা অনেকেই তৃপ্তি সহকারে গ্রহণ করেন। এটাই লুতফা বেগমের স্বার্থকতা।
লুতফা বেগম জানান, তার দেখাদেখি অনেকেই এই পেশায় নেমেছেন। তবে কিছু বৈচিত্র্যের কারণে তার পিঠার চাহিদা অনেক বেশি।