Connecting You with the Truth
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

- Advertisement -

অশান্ত দার্জিলিঙ বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে কমেছে পর্যটকদের যাতায়াত

ডিজার হোসেন বাদশা পঞ্চগড়: সম্প্রতি ভারতের দার্জিলিং এ গোর্খাদের বনধ আর ভাঙচুরের প্রভাবে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতগামী পর্যটকদের সংখ্যা কমে গেছে। তবে দার্জিলিঙ বাদে অন্যত্র চিকিৎসা সেবা ও জরুরী প্রয়োজনে এখনো ভারত যাচ্ছেন অনেকে। এদিকে দার্জিলিংয়ে বনধের মধ্যে আটকা পড়া বাংলাদেশীরা চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে অবশেষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাংলাবান্ধা দিয়ে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন।
গত ৮ জুন ভারতের দার্জিলিঙে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য দাবিকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠে পুরো পাহাড় এলাকা। গোর্খাদের বনধ আর সংঘর্ষের পাহাড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পর্যটকরাও। রাতারাতি সব হোটেল বন্ধ করে দেয়া হয়। পানি খাবার ও যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে চরম শঙ্কটে পড়েন পর্যটকরা। অনেকেই রাস্তায় চাদর পেতে ঘুমাতে হয়েছে আবার কেউ কেউ নিয়মিত ভাড়ার কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে নিরাপদ গন্তব্যে পৌছেছেন। এছাড়াও ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পর্যটকদের নিরাপদে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাহাড়ে আতঙ্কের কথা ফিরে এসে এভাবেই জানান বাংলাদেশী পর্যটক দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর এলাকার ছোটন। তার মতো চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ আরেক পর্যটক নুরে আলম বাবলুর। তিনি জানান, বাংলাবান্ধায় পা রাখার পর তিনি স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, পাহাড়ে সমস্যা চরম আকার ধারণ করায় দার্জিলিঙগামী পর্যটকদের অনেককেই তাদের ভ্রমন বিসর্জন দিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। কেউ কেউ দার্জিলিঙের উদ্দেশ্যে বের হলেও তাকে শিলিগুড়ি থেকেই ফিরে আসতে হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও থেকে দার্জিলিঙ ঘুরতে গিয়েছিলেন ফারুক হোসেন নামের এক যুবক। তিনি জানান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবাই দেখি ছোটাছুটি করছে। মুহুর্তে সকল হোটেল বন্ধ করে দেয়া হলো। খাবার ও পানির কষ্টতো আছেই। এর মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাকে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনেন এবং শিলিগুড়ি পর্যন্ত পৌছে দেন।
দেবীগঞ্জ থেকে ভারতের দার্জিলিঙ দেখার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়েছিলেন সুকুমার রায়। দার্জিলিঙ অশান্ত থাকায় তাকে শিলিগুড়ি থেকেই ফিরে আসতে হয়েছে।
এদিকে পাহাড় অশান্ত হওয়ায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের পর্যটকদের সংখ্যা মাত্রাতিক্ত হারে কমেছে। প্রতিদিন এ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে কয়েকশ মানুষ ভারতে গেলেও বর্তমানে মাত্র ৬০-৭০ জন ভারতে যাচ্ছে। এদেশ অধিকাংশই চিকিৎসার জন্য ভারতে যাচ্ছেন।
বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনের সুপারভাইজার হাসান আলী জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশী অনেক পর্যটক ভারতের দার্জিলিঙ ঘুরতে যায়। কিন্তু সম্প্রতি দার্জিলিঙয়ে গোর্খাদের আন্দোলনের কারণে এই ইমিগ্রেশন দিয়ে পর্যটকদের যাতায়াত একেবারে কমে গেছে। ভারত থেকে পর্যটকরা অনেকেই ফিরে আসছেন। তবে এখন যারা ভারতে যাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই চিকিৎসা সেবার জন্য যাচ্ছেন। বিডিপত্র/আমিরুল

Leave A Reply

Your email address will not be published.