ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও হার দিয়েই শুরু বাংলাদেশের
ওয়ানডে সিরিজে হারের পর অধিনায়ক থেকে শুরু করে দলের সবার কথায়ই ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। আর এই প্রত্যয় নিয়েই সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল টাইগাররা। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে জ্বলে উঠতে পারলেন না বোলাররাও। আর এতেই হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হলো বাংলাদেশের।
আর প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ড জিতল ৬ উইকেটে।
নেপিয়ারে টস জয়ী বাংলাদেশকে বিপর্যয় থেকে টেনে নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। প্রায় একা লড়াই করে এনে দিয়েছিলেন ১৪১ রানের পুঁজি। তাতে লড়াই হলো, জেতা হলো না। নিউজিল্যান্ড জিতেছে দুই ওভার বাকি থাকতেই।
অথচ বাংলাদেশের বোলিয়ের শুরুটায় ছিল অন্য ইঙ্গিত। কিউইদের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের দুই নায়ক নিল ব্রুম ও কলিন মানরো ফিরেছিলেন দ্রুতই। সুবিধে করতে পারেননি দলে ফেরা কোরি অ্যান্ডারসন বা অভিষিক্ত টম ব্রুস। একাদশ ওভারে রান ৪ উইকেটে ৬২, ম্যাচ তখন দোদুল্যমান।
দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেখান থেকেই ম্যাচ নিজেদের করে নিলেন উইলিয়ামসন। কিউই অধিনায়ককে রান রেটের চাপ বুঝতে দেননি ডি গ্র্যান্ডহোম। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৪৭ বলে ৮১ রানের।
ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে ৫৫ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত উইলিয়ামসন। ৩টি করে চার ছক্কায় ২২ বলে অপরাজিত ৪১ ডি গ্র্যান্ডহোম।
বাংলাদেশের শুরুটাই ছিল অস্বস্তির। অভিষিক্ত বেন হুইলার প্রথম ওভারেই কাঁপিয়ে দেন তামিম ইকবালকে। ছটফটে কিছু সময় কাটিয়ে এই বাঁহাতি পেসারের শর্ট বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তামিম (১৩ বলে ১১)।
ম্যাট হেনরির বলে জঘন্য এক শটে এর আগেই ফিরেছেন ইমরুল কায়েস। হেনরিকেই ছক্কা মেরেছিলেন সাব্বির রহমান। খানিক পর অভিষেকের উপহার তুলে দিলেন লকি ফার্গুসনকে।
অভিষিক্ত ফার্গুসনের প্রথম বলটিই ফুলটস। নিরীহ সেই বল সাব্বির তুলে দিলেন বৃত্তের ভেতর মিড উইকেট ফিল্ডারের হাতে! পরের বলেই ১৪৮ কিমি গতির সুইং ও বাউন্সে গালিতে ক্যাচ দিলেন সৌম্য সরকার।
বাংলাদেশ তখন ৩০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে। উদ্ধার করতে নামলেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৭ রানের জুটির পর সাকিব আল হাসান ফিরলেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গী মোসাদ্দেক হোসেন। এই জুটিতেই একটু গতি পেল দলের ইনিংস।
ফার্গুসনকে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে দারুণ এক ছয় মেরেছিলেন মোসাদ্দেক। বড় কিছুর সম্ভাবনা জাগিয়েও তার ইনিংস শেষ হয় ২০ রানে। বাকিটা বলতে গেলে মাহমুদউল্লাহর একার পথচলা।