Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

কাফনের কাপড় বেঁধে মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের গৃহবধূ নাজমা আক্তার (২০) এর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। গত কাল মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে সর্বস্তরের মানুষের ব্যানারে এই মানববন্ধনে নিহতের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কাফনের প্রতীক হিসেবে মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে অংশ নেন।
জানা যায়, মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন নিহতের বড় বোন নাঈমা আক্তার, শিউলী আক্তার, কুলসুমা খাতুন শেলী ও মা মাহেলা খাতুন।
নিহত নাজমার বড় বোন নাঈমা আক্তার বলেন, “যৌতুকের কারণে নাজমাকে কেরোসিন ঢেলে তার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা পুড়িয়ে হত্যা করেছে। একই সাথে তার গর্ভের সাত মাসের সন্তানকেও পাষণ্ডরা পুড়িয়ে মারে। এ ঘটনায় নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হলেও পুলিশ দেড় মাসে ৪ নম্বর আসামি ছাড়া অন্য কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি। আমরা হত্যাকারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ কেরোসিন ঢেলে আগুনে পোড়ানোর পর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যু হয় নাজমার। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন কুলসুমা খাতুন শেলী বাদি হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় স্বামী ফয়েজ মিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যান্য আসামীরা হচ্ছেন ফায়েজের পিতা খুরশেদ মিয়া (৫২), ফায়েজের মা (৪৮), ফায়েজের ভাই খায়েস মিয়া (৩০), ইউনুছ মিয়া (২৭), নাদিম (২৪), সাব্বির (২২), বোন বেবি (৩৩) ও জয়া (২০)। তাদের মধ্যে মামলার ৪ নম্বর আসামী খায়েস মিয়াকে গত ৪ দিন আগে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। সম্প্রতি মামলাটি সদর থানা থেকে ডিবিতে স্থানান্তরিত হয়। ২০১৪ সালের ১১ ই আগস্ট ফায়েজ মিয়ার সাথে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয় বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের সাতবর্গ গ্রামের সহিদ মিয়ার মেয়ে নাজমার। বিয়ের সময় নগদ ৩ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালংকার যৌতুক হিসেবে দেন তারা। বিয়ের কিছুদিন পর আরো ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এজন্যে বিভিন্ন সময় নাজমার ওপর নির্যাতন চালায় তারা।
শেষ পর্যন্ত দাবি করা টাকা না পেয়ে ৭ মাসের অন্তসত্ত্বা অবস্থায় নাজমার শরীরে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.