Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

গুরুদাসপুরের কৃষকরা রসুনের সাথী ফসল হিসাবে তরমুজ-বাঙ্গী আবাদেই মুনাফা গুনছেন

Gurudaspur - roshunগুরুদাসপুর প্রতিনিধি, নাটোর:
গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের শিধুলী গ্রামের কৃষক বিমল কুমার সরকার (৪৬)। প্রায় ১০ বছর ধরে বিনাচাষে রসুনের আবাদ করেন। শুরুতে রসুনের ভাল দামও পেয়েছেন। এতে তার অর্থনৈতিক দৈন্যতা ঘুঁচে স্বচ্ছল হয়ে উঠে সংসার। কিন্তু বিগত ৩-৪ বছর থেকে রসুনের দরপতন শুরু হওয়ায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন কৃষক বিমল। সিদ্ধান্ত নেন-আর রসুন চাষ নয়। অন্য আবাদে ফিরবেন।
এক পর্যায়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিজানুর রহমান ও সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মালেকের পরামর্শে রসুনের সাথী ফসল হিসেবে ৪ বিঘা জমিতে তরমুজ-বাঙ্গীর আবাদ করেন কৃষক বিমল। সেটা ৫ বছর আগের কথা। প্রথম বছরেই তরমুজের দাম পেয়েছেন স্বপ্নের মতো। খরচ বাদে বিঘা প্রতি ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে তার। এজন্য বিভাগীয় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। বিনা খরচে লাভজনক হওয়ায় তরমুজ-বাঙ্গী চাষের প্রতি ওই কৃষকের পাশাপাশি মাঠের অপরাপর সকলেরই আগ্রহ উৎসাহ বেড়েই চলছে দিন দিন। উৎপাদিত এই তরমুজ-বাঙ্গী দেশের অন্য এলাকার চেয়ে এই এলাকায় মিষ্টি-সুস্বাদু ও ওজনে বেশি হয়। তাই ওই অর্থকরী ফসলটি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
দক্ষিণ চলনবিল এলাকার শিধুলী, চলনালী, বিন্নাবাড়ি ও ধারাবারিষা মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি জমি থেকে রসুন উঠে গেছে, বেড়িয়ে পড়েছে তরমুজ-বাঙ্গীর গাছ। বড় বড় ঢেলের মতো অসাড় হয়ে পড়ে আছে কালো কালো তরমুজ আর বাঙ্গী। কৃষক ও কৃষক বধূরা ওই তরমুজের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
পার্শ্ববর্তী উদবাড়িয়া গ্রামের কৃষক তহিদুল ইসলাম জানান, ৪ বিঘা জমিতে বিনা চাষে রসুনের আবাদের পাশাপাশি তরমুজ -বাঙ্গীর চাষ করেন। গত ৩ বছর ধরে রসুনের দরপতন শুরু হলেও সাথী ফসল তরমুজ-বাঙ্গীর উৎপাদনে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। গত বছর তিনি তরমুজ-বাঙ্গী চাষে ৭ লাখ টাকা লাভবান হওয়ায় এ বছর তিনি ৮ বিঘা জমিতে তরমুজ-বাঙ্গীর আবাদ করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিজানুর রহমান জানান, এবারের মৌসুমে গুরুদাসপুর উপজেলার শুধুমাত্র ধারাবারিষা ইউনিয়নেই ৩ হাজার হেক্টর জমিতে রসুনের সাথী ফসল হিসেবে তরমুজ, বাঙ্গী, শসা ও খিড়ার আবাদ করেছে কৃষকরা। এগুলো উৎপাদনে অনুকূল আবহাওয়া পেলে প্রতিবারের তুলনায় কৃষকরা এবার বাম্পার মূল্য পাবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.