চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে শংকায় তীরবর্তী মানুষ

হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে পদ্মানদীর তীব্র ভাঙন শুরু হওয়ায় শংকায় দিন পার করছে নদী তীরবর্তী জনসাধারণ।
চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি কমার সাথে সাথে উপজেলার সদর ইউনিয়নের এম.পি. ডাঙ্গী গ্রামের কয়েকটি স্থানে হঠাৎ করে নদী ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ঐ এলাকার হাজরো বাসিন্দা। জানা যায়, গত কয়েক দিনের ভাঙ্গণে ঐ এলাকায় প্রায় কয়েক বিঘা ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। খবর পেয়ে ১৪ আগষ্ট রবিবার দুপুরে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা সিদ্দিকা ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজাদ খান। নদী ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা সিদ্দিকা বলেন নদী ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও ওয়াবদা সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
রবিবার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদী পাড়ে বড় বড় ফাটল ধরে তা শ্রোতের তোরে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এবং এলজিইডি এর পাকা রাস্তা হইতে পদ্মা নদীর দুরত্ব রয়েছে মাত্র ৫০ফিট। ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দা মোকছেদ সিকদার(৬৫) ও মোঃ ওয়াছেল সিকদার(৬৭)বলেন, “বাপ দাদার আমল থেকে এই এলাকায় আমাদের বসবাস নদীতে ফসলী জমি অনেক আগেই নিয়ে গেছে, এখন বসত ভিটেটুকু নিয়ে গেলে শুধু আমারাই নই, এই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে রাস্তায় গিয়ে উঠতে হবে”। নদী ভাঙনের বিষয়ে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজাদ খান বলেন গত তিন দিন যাবত এম.পি ডাঙ্গী এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে দ্রুত নদী ভাঙা প্রতিরোধে ব্যাবস্থা গ্রহণ না করলে উপজেলার এম.পি.ডাঙ্গী,বালিয়াডাঙ্গী,হাজীডাঙ্গী, মাথাভাঙ্গা,জয়দেব সরকারের ডাঙ্গীর পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন স্কুল,কলেজ,মসজিদ ও মাদ্রাসা সহ চরম হুমকির মুখে রয়েছে চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ। পদ্মা নদীর ভাঙ্গন হতে চরভদ্রাসন উপজেলা বাচাঁতে বাধঁ নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবী স্থানীয়দের তাই সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃক্ষের নিকট জোড় দাবী জানিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।