জিহাদীদের দমনে আঞ্চলিক সম্মেলন অস্ট্রেলিয়ায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট জিহাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতার জন্য এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলন উদ্বোধনকালে বৃহস্পতিবার তিনি এ আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, কেবল স্থানীয়ভাবে নয় জিহাদী গ্রুপ ইসলামিক স্টেটের লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ৩০টি দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধি এবং যোগাযোগ সাইট ফেসবুক, টুইটার ও গুগলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনে অ্যাবট বলেন, চরমপন্থীদের মতাদর্শ মোকাবেলায় কৌশল খুঁজে বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ইরাক ও সিরিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ইসলামিক স্টেট গ্রুপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এ ধরণের চরমপন্থী গ্রুপগুলোর সঙ্গে আলো চনা হতে পারে না। এদের বিরুদ্ধে কেবল লড়াই চালাতে হবে। তিনি বলেন, কেবল স্থানীয়ভাবে নয় জিহাদী গ্রুপ ইসলামিক স্টেটের লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরাকী বাহনীকে প্রশিক্ষিত করতে সেখানে অতিরিক্ত সাড়ে চারশো সৈন্য মোতায়েনের অনুমোদন দেয়ার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া এ সম্মেলনের আয়োজন করলো। ওয়াশিংটন এর আগে ফেব্রুয়ারিতে এ ধরণের সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে ওবামা বলেছিলেন, বিশ্বকে আইএসের মতো গ্রুপগুলোতে লোকজনের যোগদানের মূল কারণসমূহ মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু তেমন কোন পদক্ষেপের ঘোষণা ছাড়াই তিন দিনের ওই বৈঠক শেষ হয়েছিল।
সিডনিতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে যেসব বিষয়ে আলোচনা হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সন্ত্রাসীদের দমনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের সঙ্গে কাজ করা, সন্ত্রাসীদের প্রচার প্রচারণা নিয়ন্ত্রণ এবং যে কোন পদক্ষেপে নারী ও পরিবারকে সম্পৃক্তকরণ। অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের হিসেব মতে, একশরও বেশি অস্ট্রেলীয় আইএসে যোগ দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত মারা গেছে অন্তত ৩০ জন। এছাড়া এশিয়া প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোক জিহাদী গ্রুপে যোগ দিয়েছে।