Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

মহেশপুরে কপোতাক্ষের বক্ষে ধান চাষ

মহেশপুর প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ:
ব্রটিশ আমলে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরসহ এ অঞ্চলের কলকাতা ও ভারত বর্ষে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল নদী পথ। কপোতাক্ষ ও ভৈরব নদী দিয়ে লঞ্চ ও নৌকা যোগে চলাচল করা হতো। সেই কপোতাক্ষ নদীতে এখন ধান চাষ করা হচ্ছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে যোগাযোগব্যবস্থা ও দেশিয় প্রজাতির মাছ।
মহেশপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে ভৈরব, কপোতাক্ষ, ইছামতি, বেতনা, কোদলাসহ প্রভৃতি নদী প্রবাহিত ছিল। এই সকল নদীগুলো অনেক ইতিহাস বহন করে। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ সব হারিয়ে গেছে। এক সময় ইংরেজ শাসক গোষ্ঠি ও জমিদারদের মোটর-লঞ্চ নদী বক্ষে সিটি বাজিয়ে বা ভেপু বাজিয়ে মুখরিত করতো। অসংখ্য জলযান ও মাঝি-মাল্লাদের কোলাহল ছিল এই নদীগুলোতে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নদী পথে ব্যবসা করতে আসতো ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এসে ২/৩ মাস অবস্থান করে মালামাল বিক্রি করে এখান থেকে ধান-চালসহ চাহিদা মোতাবেক জিনিসপত্র নিয়ে চলে যেত। উপজেলার প্রধান নদী এখন স্রোতহীন, পানিশূন্য। মানুষ এখন নিজেদের মতো করে নদী দখল করে ধান চাষ করছে। এলাকার প্রভাবশালী ভূমি দস্যুরা নদী দখল করে পুকুর খনন করেছে। ভারতের গঙ্গা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে পদ্মা নদী নাম ধারণ করে। এর শাখা নদী মাথাভাঙ্গা, গড়াই এবং গড়াই এর শাখা নদী ভৈরব বা কপোতাক্ষ।
মহেশপুরের এস বি কে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ বলেন, কপোতাক্ষের সেই যৌবন অনেক আগেই বিলীন হয়ে গেছে। এখন দখলদাররা ধান চাষ করে নদীর বুকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নিলেও কোন সুরাহা হয় নি। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এদিকে খেয়াল করা উচিত।
এ ব্যাপারে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন বলেন, কপোতাক্ষ নদকে দখলমুক্ত করতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব দখলদার রয়েছে তাদের নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অবিলম্বে এ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। ভরাট হওয়া নদীগুলো পুনঃখনন এবং অবৈধ বাঁধ ও পুকুর খনন বন্ধ করে পানি প্রবাহ সৃষ্টি করলে আবার পুরনো ইতিহাস রক্ষা করা সম্ভব।

Leave A Reply

Your email address will not be published.