মৌলভীবাজারের নিহত ৬ জঙ্গীই দিনাজপুরের; এলাকায় চরম আতঙ্ক
দিনাজপুর প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে জঙ্গী আস্তানায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৬ জন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার। স্থানীয়রা রয়েছেন চরম আতঙ্কে। স্বজনেরা নিহত ৬ জনের লাশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
মৌলভীবাজারের নাসিরনগরে জঙ্গী আস্তানায় আত্মঘাতী হিসেবে নিহত ৭ জনের মধ্যে ৬ জনই দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বলে দাবী করেছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। জঙ্গী লোকমান আলী, তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার, কন্যা আমেনা খাতুন, সুমাইয়া আক্তার, ফাতেমা ও মরিয়ম আত্মঘাতী হয়ে নিহত হয়। নিহত নারী জঙ্গী শিরিনা আক্তার ২৯ মার্চ তার মা জোবায়দা ও বাবা আবু বক্করের সাথে মোবাইলে কথা বলেন। তখন শিরিনা বলে, তোমাদের সাথে এই দুনিয়ায় আর দেখা হবে না। হাশরের ময়দানে দেখা হবে। বাবা-মা কোথায় আছে জানতে চাইলে শিরিনা তা জানাইনি। এসময় মা জোবায়দা শিরিনাকে তার ৬ মাসের কন্যা সন্তান খাদিজাকে রক্ষার জন্য আকুতি-মিনতি করলে কাজের এক মেয়েসহ খাদিজাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। খাদিজা ও কাজের মেয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করলে এই দুজন আত্মঘাতি হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যায়।
২০০২ সালে ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ী গ্রামের আবু বক্করের কন্যা শিরিনা আক্তারের সাথে বিয়ে হয় একই উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র লোকমান আলীর। সংসারে ২ সন্তান জন্মগ্রহণের পর লোকমান জড়িয়ে পড়ে জঙ্গী তৎপরতায়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনার চাপ দেয়া হলেও সে সময় ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করার কথা বলে লোকমান চলে যায়। প্রায় ৪ বছর ধরে লোকমান ও কন্যা শিরিনাসহ নাতনিদের সাথে তাদের যোগাযোগ ছিল না। সর্বশেষ ২৯ মার্চ মোবাইল ফোনে শিরিনা আক্তার মা জোবায়দার সাথে কথা বলেন। ৩ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে লোকমান ছিল সবার ছোট। সে ঘোড়াঘাট উপজেলার কৃষ্ণরামপুর মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করে।
লোকমানের সৎ মা সোমেস্তা বানু জানান, তাকে ধরার জন্য ২০১১ সালে পুলিশ একবার বাসায় এলেও তাকে পায়নি। ঘোড়াঘাট থানার ওসি ইসরাইল হোসেন বলেন, পুলিশ আগে থেকেই লোকমানের জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি জানতো। তাকে ধরার জন্য একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। লোকমানের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানায় ২০০৮ সালের ২৫ অক্টোবর সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং- ৩৮, তারিখ- ২৫/১০/২০০৮। সে মামলায় তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দেয়া হয়। আদালত তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ও ক্রোকী পরোয়ানা দিয়েছিলেন।
সিংড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, এবছরের মার্চ মাসে ঘোড়াঘাট উপজেলায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভায় তিনি লোকমানসহ ৩ জঙ্গীর নাম পুলিশের কাছে দিয়েছিলেন।
নাসিরনগরে জঙ্গী লোকমানসহ পরিবারের ৬ জনের আত্মঘাতী হামলায় নিহত সংবাদ পাওয়ার পর অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন লোকমানের পিতা নুরুল ইসলাম। লোকমানের বোন নুর জাহান, নুরবানু ও ভাই জাকারিয়া নিহতদের লাশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তারা বলেন, আমরা এ লাশ নেব না।
নাসিরনগরের জঙ্গী আস্তানায় নিহত ৬ জনই ঘোড়াঘাটের বাসিন্দা হওয়ায় এখন এই উপজেলার সর্বত্রে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। অনেকের ধারণা তাদের এলাকায় আরো অনেক জঙ্গী রয়েছে।##