গুলশান হামলা: এর দায় ইসলামের নয়
রিয়াদুল হাসান
গত কয়েকদিন থেকে গুলশানের পৈচাশিক হত্যাকান্ডের নৃশংস ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। দুঃখে বুক ভেঙে যায়, যখন দেখি ইসলামের নাম করে এগুলো হচ্ছে। যারা নিহত হলো তারাও জানল না যে ইসলামের আসল শিক্ষাটা কী। যারা হত্যা করল তারাও জানতে পারল না যে দীন প্রতিষ্ঠার জেহাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর রসুলের প্রকৃত শিক্ষাটি কী? মধ্যে দিয়ে দুনিয়াবাসী একটি ভুল মেসেজ পেল। ইসলামের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর পথটি আরো সুগম হয়ে গেল। তারা কার হয়ে কীসের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন জানি না, মাঝখানে দোষ চাপানো হলো ইসলামের উপর, বদনাম হলো আমার দেশের।
যখন উচ্চবিত্ত ঘরের ছেলেরা জঙ্গি হলো তখন সুশীলরা বলতে শুরু করলেন, আমাদের সন্তানদের বাঁচাবো কীভাবে? যতদিন এটি মাদ্রাসা আর দরিদ্র লেভেলে ছিল ততদিন তারা ছিল অন্যদের সন্তান। এখন সেই অজপাড়া গাঁ থেকে অভিজাত পাড়া, অধ্যাপক থেকে শুরু করে মন্দিরের নির্বিরোধী সেবায়েত পর্যন্ত সবাই আক্রান্ত হচ্ছে, তখন সবার টনক নড়ছে। কথায় বলে সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়। আমরা ২০০৯ সন থেকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী একটি আদর্শের প্রস্তাব করছি। সেটা যদি গত সাত বছর ধরে প্রচার করা হতো, বাংলাদেশে এই অবস্থা সৃষ্টি হতো না, এ কথা আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি। অদূরদর্শী আমলাতান্ত্রিক সিস্টেমের কারণে জঙ্গিবাদ যে একটি জাতির অস্তিত্ব বিপন্নকারী সঙ্কট সেটাই মানুষ ধরতে পারে নি। যাহোক, এখনতো বোঝা গেছে? এখনও যদি আমাদেরকে ষোল কোটি মানুষের কাছে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের যুক্তিগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়, হয়তো শেষ রক্ষা হবে ইনশাল্লাহ। লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশেরপত্র.কম ও সাহিত্য সম্পাদক, হেযবুত তওহীদ।