কেনিয়ায় কলেজে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪
কেনিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সোমালিয়ার সীমান্তবর্তী গ্যারিসা শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে মুখোশধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪-এ দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, প্রথমে যে জিম্মি সংকটের খবর দেওয়া হয়েছিল সেটা এখনও কাটেনি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে গ্যারিসা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নামে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ খবর জানায়। খবরে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের হামলায় দুই নিরাপত্তারক্ষীসহ অন্তত ১৪ জন নিহত ও আরও কয়েক ডজন লোক আহত হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ৫-৬ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে প্রাতঃপ্রার্থনার জন্য মসজিদে যাওয়া কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছোঁড়ে। এসময় কিছু লোকজন ছুটে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে পারলেও সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারাতে হয় বেশ ক’জনকে। আর তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে আরও কিছু শিক্ষার্থী। অবশ্য, জিম্মি হওয়া ১৫ মুসলিম শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কিছু সংবাদমাধ্যম। হামলার পরপর কেনিয়ান রেড ক্রস কর্মকর্তারা জানান, আহত দুই পুলিশ সদস্য ও কিছু শিক্ষার্থীসহ অনেককে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে কলেজের ছাত্রাবাস সংলগ্ন একটি মসজিদের পাশ থেকে ব্যাপক বিস্ফোরণ ও গুলিবিনিময়ের শব্দ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সন্ত্রাসী হামলার পর গুলিবিদ্ধ দুই নিরাপত্তারক্ষীর লাশ কলেজ ফটকের সামনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ কলেজ ক্যাম্পাসে ছুটে যায় নিরাপত্তা বাহিনী। বেসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি সেখানে কেনিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও ছুটে যান বলে জানায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, সন্ত্রাসীরা বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে রেখেছে। তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করতে কলেজ ক্যাম্পাসসহ আশপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া, কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে হতাহতরা পড়ে থাকতে পারে। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে কেনিয়া-সোমালিয়া অঞ্চলের জঙ্গি গোষ্ঠী আল-শাবাব।
