ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক এখন কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক
শাহ্ আলম, জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম কুুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগে বিবদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৮ নভেম্বর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে পাল্টা কমিটি ঘোষিত হয়েছে। গঠিত কমিটি কুড়িগ্রাম পলিটেকনিকেল ইন্টিটিউটে গত ১৬ নভেম্বর সমর্থন আদায়ে প্রবেশ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘষের ঘটনা ঘটে। কেন্দ্র থেকে ঘোষিত কমিটির সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকসহ ১০ জন আহত হয়।
এনিয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। মামলার ভয়ে জেলা ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপের অধিকাংশ নেতাকর্মী এখন সাংগাঠনিক কার্যক্রম বাদ দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে ৪ ডিসেম্বর সেভ ক্যাম্পাস, ক্লিন ক্যাম্পাস কর্মসুচী পালনকালে কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজে শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়াকে কেন্দ্র করে কলেজের শিক্ষক ও সাধারন ছাত্ররা লাগাতার কর্মসূচী পালন করে আসছে। এঘটনাকে কেন্দ্র করেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নামে সদর থানায় অপর মামলায় গ্রেফতার আতংকে ভুগছে । জেলা ছাত্রলীগ সুত্র জানায়, ছাত্রদলের এক সক্রিয় কর্মীকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক করায় অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর কমিটিতে প্রত্যাশিত পদ পাওয়ার আশা ভেস্তে যায়। এতে করে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অংগ সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ছাত্রলীগের পদ বঞ্চিত নেতারা অভিযোগ করেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত আওয়ামীলীগ সরকার পতনের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদলের কুড়িগ্রাম মজিদা কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সাকিব এখন কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক অংগনে। এই সিদ্ধান্তকে ঘৃনাভরে প্রত্যাক্ষান করেছে অনেকেই। কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের উপর আস্থা হারিয়েই কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোন এক নেতার পরিচিত এই সাকিবকে সেক্রেটারী ঘোষণা করেছে বলে অভিযোগ জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম মজিদা কলেজ শাখার ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন সফিকুল ইসলাম সাকিব। এইচএসসি ভর্তির পর থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল সে। ২০১৩ সালের সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে মজিদা কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাকিবকে। এর আগে ২০১২ সালেও সে একই কলেজে ছাত্রদলের কার্যনির্বাহি কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করেন। ২০১৩ সালে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহতে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আন্দোলনেও সক্রিয় নেতৃত্ব দেন তিনি। সাকিব বর্তমানে মজিদা কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বর্ষের ছাত্র। গত ৮ নভেম্বরের কাউন্সিলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী নাজমুল হক অযোগ্য ঘোষনা হলে তিনি তার ঘনিষ্ট ও আস্থা ভাজন এই ছাত্রদল নেতা সাকিবের নাম প্রস্তাব করেন। পরে কোন রকম চিন্তা-ভাবনা না করে ঢাকায় বসে কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সেক্রেটারী সিদ্দিকী নাজমুল আলম ওয়াহেদুর নবী সাগরকে সভাপতি ও সফিকুল ইসলাম সাকিবকে সেক্রেটারী করে তিন সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন। কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্র দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোরশেদ হোসেন লিটু জানান, ছাত্র দলের সক্রিয় কর্মী সাকিব। সে আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিল। গতবছর তাকে মজিদা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। ছাত্রদলের এমন একজন সক্রিয় নেতাকে জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি করায় আমরা হতবাক। জেলা আওয়ামীলীগের প্রথম যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আমান উদ্দিন মঞ্জু জানান, জেলা আওয়ামীলীগের সকল ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় আমি আশাহত। এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না। যাদের প্ররোচনায় কেন্দ্রীয় কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা আওয়ামীলীগের মঙ্গল চায় না। কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগ রাজনীতি পুরোপুরি দুর্বল করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে ছাত্রদল নেতাকে ছাত্রলীগে আনা হয়েছে। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী নিজ স্বার্থ উদ্ধারে এই কাজটি করেছেন বলেও জানান তিনি। এদিকে কেন্দ্র ঘোষিত কমিটিকে প্রত্যাখান করে গত ৩০ নভেম্বর কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে ৪০১ জন ছাত্রলীগ কাউন্সিলরের মতামতের ভিত্তিতে মমিনুর রহমান মমিনকে সভাপতি ও রিপন আহমেদকে সাধারন সম্পাদক করে ১২১ সদস্য বিশিষ্ট পাল্টা কমিটি গঠন করেছে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের পদ বঞ্চিত নেতারা। ৮ নভেম্বর জেলা ছাত্রলীগের কাউন্সিলে কাউন্সিলরদের মতামত উপেক্ষা করে পকেট কমিটি ঘোষণার প্রস্তাব করে কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। এতে কাউন্সিলররা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবী জানালে হট্রগোলের সুষ্টি হয়। পরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কুড়িগ্রাম ত্যাগ করে ঢাকা থেকে কমিটি ঘোষনা করে। এরপর থেকে কুড়িগ্রামে আওয়ামীলীগের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। টানা ১০ দিনের লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বঞ্চিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।