Connecting You with the Truth
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

- Advertisement -

নড়াইলে ব্যাঙ্গের ছাতার ন্যায় গজিয়ে উঠেছে একাধিক ক্লিনিক

দালাল ও রিপ্রেজেনটিভদের দৌরাত্মে ক্লিনিকের ব্যবসা রমরমা……!!

নড়াইলে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্যাঙ্গের ছাতার ন্যায় গজিয়ে উঠেছে একাধিক ক্লিনিক; জনগণের ভোগান্তি-অতৎপর ভ্রাম্যমান আদালত 

0304    06050708

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: নড়াইলে নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে চলছে ক্লিনিক ও প্যাথলজি ব্যবসা। জেলা শহরে প্রশাসনের নাকের ডগায় চরম অব্যবস্থাপনা অনিয়ম আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগিদের নিয়ে রীতিমত প্রতারনা করা হচ্ছে এসব ব্যক্তি মালিকানাধিন ক্লিনিক ও প্যাথলজিক্যাল প্রতিষ্ঠানে। সহজ সরল রোগিদের প্রতারনা করে রাতারাতি ভাগ্যের চাকা ঘোরানো যাদুকরি এ ব্যবসা দেখে দুর্নীতিবাজ অসৎ ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসায় ঝুকে পড়ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার তিনটি উপজেলা শহরেও নতুন করে গড়ে উঠছে লাইসেন্স বিহীন ক্লিনিক ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাব। চিকিৎসা ও রোগিদের সেবার নামে এসব ক্লিনিক ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে চলছে প্রতারনা ব্যবসা।

অধিকাংশ ক্লিনিক ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে নেই কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক। অথচ ৪/৫জন করে চিকিৎসকের নাম দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের সামনে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান ১০/১২ জন চিকিসকের নাম ঝুলিয়ে রেখেছেন। অধিকাংশ ক্লিনিক মালিক রোগি টানার জন্য উদ্দেশ্যমুলক ভাবে কিছু ডাক্তারের নাম ঝুলিয়ে রাখেন যারা আদৌ ওই ক্লিনিকে আসেন না। বেশির ভাগ সময় অদক্ষ আনাড়ি ডাক্তার দিয়েই চিকিৎসা চলে। ডাক্তার ডেকে না পেয়ে ক্লিনিক মালিক নিজেই সিজার করেছেন এমন অভিযোগও রয়েছে।

সাইনবোর্ড ঝুলানো থাকলেও অনেক ডাক্তার নিজেই জানেন না তার সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এমনও আছে যে, একজন ডাক্তারের সাইনবোর্ড জেলার ৮ টি ক্লিনিকের সামনে রয়েছে। এতেই বোঝা যায়, জেলার চিকিৎসা সেবা চলছে, “আলিফ লায়লা” সিরিয়ালের মত আজগুবি কায়দায়। একটি রোগের কথা বলে কোন ভাবে একবার ভর্তি করতে পারলে আর কথা নেই, নানা অজুহাতে ওই রোগির কাছ থেকে চাঁদাবাজদের মত অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। ভুক্তভোগিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিজারিয়ান বা এপেনডিক্স’র অসংখ্য রোগি ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ অপারেশন থিয়েটারে রোগিকে রেখে অন্য আরোও সমস্যার কথা বলে ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। কতিপয় অসাধু দুর্ণীতিবাজ ডাক্তার রয়েছেন যারা সরকারি হাসপাতালে ঠিকমত রোগি না দেখে এসব ক্লিনিক মালিকদের সাথে হাত মিলিয়ে দেদারছে টাকা কামিয়ে যাচ্ছেন।

হাসপাতাল হতে কৌশলে সরকারি ঔষধ নিয়ে ক্লিনিকের রোগিদের দেয়ার অভিযোগ পর্যন্ত রয়েছে এসব ডাক্তারের বিরূদ্ধে। জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন ও স্থানীয় দুর্ণীতিবাজ ঘুষখোর রাজনৈতিক নেতারা প্রকাশ্যেই এসব ডাক্তারদের মদদ দেন। এসব ক্লিনিক মালিকদের পোষা দালাল রয়েছে। যারা হাসপাতাল হতে রোগিদের ওইসব ক্লিনিকে যেতে প্ররোচিত করেন। কয়েকজন ডাক্তার রয়েছেন যারা ভাল চিকিৎসা দেয়ার নামে রোগি ভাগিয়ে নিয়ে যান তার পছন্দের ক্লিনিকে। ক্লিনিকে ভর্তির পর ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিক রোগির পকেটের অবস্থা বুঝে ব্যবসা শুরু করেন। বিভিন্ন প্রকার পরীক্ষা নিরিক্ষার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। কোন কোন ক্ষেত্রে একই রিপোর্ট পরীক্ষা নিরিক্ষায় ভিন্ন ভিন্ন প্যাথলজিল্যাব (২য় পাতায় দেখুন) থেকে ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্ট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ডাক্তারদের পছন্দের (কমিশন প্রাপ্ত) ল্যাব থেকে পরীক্ষা না করালে রোগীদের চিকিৎসা পত্র দেয়া হয় না। ইতোমধ্যে ভুল ও অপ-চিকিৎসা দিয়ে রোগি মেরে কুখ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে কয়েকটি ক্লিনিক। কুখ্যাত এসব ক্লিনিকের মধ্যে রয়েছে- চিত্রা সার্জিক্যাল ক্লিনিক, মডার্ন সার্জিক্যাল ক্লিনিক, ডিভাইন সার্জিক্যাল হাসপাতাল, নিরাময় সার্জিক্যাল ক্লিনিক সহ কয়েকটি ক্লিনিক। এছাড়া রোগি সেবার নামে কয়েকটি ক্লিনিকের বিরূদ্ধে অবৈধ এমআর/ডিএমসি করার অভিযোগ রয়েছে। এসব ক্লিনিকে অদক্ষ লোক দিয়ে এমআর/ডিএমসি করে অনেককে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। তারা জেলার বাইরে অন্য ভাল হাসপাতাল/ক্লিনিকে মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে চিকিৎসা নিয়ে ভাল হয়েছে। আবার অনেকে মৃত্যু বরন করেছেন। নিজেদের দূর্বলতা থাকায় রোগির স্বজনেরা মৃত্যুর অন্য কারন দেখিয়ে বিষয়টি চেপে গেছেন।

এসব ক্লিনিকে এমআর ডিএমসি করতে এসে অনেক তরুনী,যুবতী ও মহিলা যৌন হয়রানীর শিকার পর্যন্ত হয়েছেন। এমনকি দেহ ব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে দু’টি ক্লিনিকের বিরূদ্ধে। সম্প্রতি দু’টি ক্লিনিকে পুলিশ হানা দিয়ে ৩/৪ জন করে যৌন কর্মীকে খরিদ্দার সহ আবিস্কার করেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ যৌন কর্মীদের নার্স ও খরিদ্দারদের রোগির স্বজন হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অগত্যা পুলিশকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তারা পার পায়। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কিছু ডাক্তাররা সরকারী দায়িত্ব পালন না করে নড়াইলের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে দায়িত্ব পালন করছেন। রয়েছে কতিপয় অসাধু ডাক্তারদের সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ। অসুস্থ রোগীদের বাইরে অপেক্ষায় রেখে চেম্বারের ভিতরে নিজেদের কাজেই বেশী থাকেন তারা।

কারো কারো বিরুদ্ধে আবার অনৈতিক কার্যক্রমেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে হাসপাতালে অচিকিৎসারত রোগীরা অবহেলার কারণে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেকেই এ রকম খাম খেয়ালি, ভুল ও অপ-চিকিৎসার শিকার হয়ে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিচ্ছেন। তাদের সন্তান ও স্বজনরা সারা জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন চাপা ক্ষোভ আর কষ্ট। সচেতন নড়াইলবাসি এসব খাম খেয়ালি চিকিৎসক ও রোগিদের সর্বস্ব লুট করা ক্লিনিক হতে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.