পাবনায় দু’সন্তানের জননীকে পুড়িয়ে হত্যা: দেবর আটক
পাবনা প্রতিনিধি:
জেলার সদর উপজেলায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে দু’সন্তানের জননী মুক্তি খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুক্তির দেবরকে আটক করেছে পুলিশ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার দুপুর ১টার দিকে মারা যান মুক্তি।
মৃত মুক্তি খাতুন সদর উপজেলার হেমায়েতপুর মৎসজীবীপাড়া গ্রামের মহব্বত আলীর স্ত্রী এবং পাবনা পৌর এলাকার নারায়ণপুর জামাইপাড়ার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। মুক্তি খাতুন পরশ (৬) ও আরশ (৪) নামের দু’টি সন্তানের জননী।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুল হক মুক্তি মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ৮-৯ বছর আগে মুক্তি খাতুনের সঙ্গে মহব্বত আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুক্তির ওপর নির্যাতন চালাত। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার ভোরে ঘুমন্ত মুক্তির হাত-পা ও মুখ বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ সময় মুক্তি খাতুনের স্বামী মহব্বত আলী বাড়িতে ছিলেন না। আগুনে মুক্তি খাতুনের শরীরের বেশীরভাগ অংশ ঝলসে যায়। চিৎকারে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা সকাল ৮টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
ওসি আহসানুল হক আরও জানান, খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সদর থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে মুক্তির শ্বশুর, শাশুড়ি, দেবরসহ বাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক মুক্তির দেবর মোহাম্মদ আলীকে আটক করেন।