ফরিদপুরে দশ টাকা কেজি চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
মোঃ হারুন-অর রশিদ ,ফরিদপুর প্রতিনিধি ঃ
ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের বাঁশহাটা এলাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে স্বল্প মূল্যে (প্রতি কেজি ১০ টাকা মুল্যে) চাউল বিতরণ কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে । স্থানীয়রা জানায়, ১০ টাকা করে প্রতিকেজি চাউল বিতরণের নিয়ম থাকলেও ৩০ কেজি চাউলের জন্য ৩০০ টাকা জমা দিয়ে কার্ড নিয়ে গ্রাহকরা চাউল সংগ্রহ করছেন। এলাকাবাসির অভিযোগ, গ্রাহকরা ডিলারের কাছ থেকে চাউল সংগ্রহের পরে অন্য স্থান থেকে মাপ দিলে প্রতি ৩০ কেজি চাউলে ৪ থেকে ৫ কেজি কম পাওয়া যাচ্ছে ।
এব্যপারে চাঁদপুর গ্রামের বাঁশহাটা বাজারের আবুবকর সিদ্দিক,মোঃ আতিয়ার,রেজাউল করিম,জামাল শেখ,মোঃ অমেদ শেখ, ইউনুছ শেখ চাউল কম দেয়ার বিষয়ে এই প্রতিবেদককে জানান, চাঁদপুরের বাঁশহাটা এলাকার হতদরিদ্র নাজমা পাগল, জলিল প্রতিবন্ধি, বাবুল সরদার, আক্কাস, বুড়ি, ভানু, মুন্নি, কহিনুর, হাজেরা, সুফিয়াসহ প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ যারা দিন আনে দিন খায় এবং অন্যের সাহায্যে চলে তারা এই কার্ড না পেয়ে অপেক্ষাকৃত সচ্ছল ব্যক্তিরা এ কার্ড পাচ্ছেন ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতা জামালের নামে এ ডিলার বরাদ্ধ রয়েছে। এছাড়াও ইউনিয়নে অন্য আরো দুটি ডিলারও (মন্টু ও ক্ষিতিশ) তার দখলে রয়েছে । কার্ড বিতরণে অনিয়ম, ওজনে কারচুপিসহ সকল কিছুর হোতাই এই জামাল বলে জানান।
তারা আরো অভিযোগ করেন, প্রত্যেকটি ডিলারের নিয়ন্ত্রনে ৫/৬শত কার্ড থাকলেও মাত্র ২/৩শত লোকের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয় । অন্যদিকে, বাকি কার্ডগুলো নিজেদের কাছে রেখে ঐ কার্ডগুলোর বিপরীতে বরাদ্ধকৃত চাউল বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে দিচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে এ প্রতিবেদক ডিলার জামালের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে, তিনি দাম্ভিকতার সাথে নিজেকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী হিসাবে পরিচয় দেন । এছাড়া এই প্রতিবেদককে জানান, চাউল ওজনে কম দেয়া হয়নি। কিন্তু দেখা গেছে চাউল পরিমাপের সময় কেউ ৩০ কেজির বেশী পেয়েছে কেউ হয়ত কম পেয়েছে।
হতদরিদ্র ব্যক্তিরা কার্ড পায়নি কেন এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কার্ড বিতরণ করেন ফিল্ড সুপারভাইজাররা এতে আমার কোন হাত নেই। এছাড়াও একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চাউলের ডিলার মন্টুর বিরুদ্ধে রয়েছে একই ধরনের অভিযোগ। ঈষান গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর হাটের চাউলের ডিলার ক্ষিতিষের চাউল বিতরণের খাতা খুলে দেখা যায় , সেখানে চাউল সংগ্রহকারীদের কোন টিপ এবং সহি নেই। এ প্রসংগে প্রতিবেদককে ক্ষিতিষ জানায় যে, চাউল সংগ্রহকারীরা কোন সহি করতে পারেনা। টিপসহির বিষয়ে সে কোন সন্তোষজনক জবাবও দিতে পারেনি।
নিয়মানুযায়ী সপ্তাহে শুক্র,শনি ও মঙ্গলবার তিনদিন চাল বিতরণের কথা থাকলেও তিনি গত শুক্রবার চাল বিতরণ কর্মসূচি বন্ধ ছিল। চাল সংগ্রহকারী হতদরিদ্র অভিযোগকারীরা অতি দ্রত এই কার্ড বিতরণ ও ওজনে কম দেয়ার বিষয়ে মাননীয় মন্ত্রি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি ও জেলা সদরের উপজেলা চেয়ারম্যানসহ জেলা প্রশাসনের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।